আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, সরকারে থাকা অবস্থায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে বিএনপিকে জনগণ বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করবে। আর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে ক্ষমতা হারালে বিএনপি সবচাইতে বেশি নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হবে।
আজ শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ কর্মসূচির সূচনালগ্নে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই সনদকে অক্ষরে অক্ষরের চক্করে ফেলে সরকার জনগণের সঙ্গে টক্কর খেলতে চায়। গণরায় বাস্তবায়ন না করলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট দেয়া ৪ কোটি জনতার মঞ্চ সংগঠিত করার হুঁশিয়ারি জানান তিনি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী (বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি) শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ডিসেম্বর নয়, সম্ভব হলে আপনি নভেম্বরেই দেশে ফিরে আসুন। জুলাইয়ের ক্ষত এখনও আমাদের মনে দগদগে ঘায়ের মত হয়ে আছে। আপনি যত দ্রুত দেশে ফিরবেন, তত দ্রুত এই ঘা শুকানো বা নিরাময়ের পথ তৈরি হবে। রক্ত দিয়ে লেখা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আরো রক্তের প্রয়োজন হলে তা উৎসর্গ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, সরকার এক কোটি লোকের চাকরি বা কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। আওয়ামী লীগের দেয়া ১০ টাকা কেজি টাকা দরে চাল খাওয়ানোর মিথ্যা ওয়াদার সঙ্গে তিনি এর তুলনা করেন। সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী চার শতাধিক কারখানা বন্ধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার গত ৮ মাসে কারো চাকরি দেয়া দূরের কথা, বরং এমপি মিষ্টি ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের চাকরি নট করে দিয়েছে। আইজি আলী হোসেন ফকির ও নাটোরের এমপি আব্দুল আজিজের চাকরির অবস্থাও নড়বড়ে।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রথম ১ বছরে নিজস্ব অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ৩৮ জন নিহত হয়েছিল। এবার বিএনপি ক্ষমতায় আসার ৮ মাসের মধ্যেই নিজেদের স্বার্থের দ্বন্দ্বে ৪০ জন মারা গেছে। এজন্যই আমরা বিএনপিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তুলনা করি। ৭ দফা দাবি না মানলে অতীতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি যে ধরনের পদক্ষেপ বা কর্মসূচি নিয়েছিল সে ধরনের কর্মসূচি নেয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি জানান।
সমাবেশে এবি পার্টির নেতাদের মধ্যে আরো ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, মো. আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান ও মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন।










