ভাবুন তো, কোটি কোটি বছর আগে এক ছোট্ট মাছি তার ডানা মেলে উড়ে বেড়াচ্ছে। আর হঠাৎ করে গাছের আঠালো রসে আটকা পড়ে গেল। মৃত্যুর আগেই তার শরীর দখল করে বসেছিল অদ্ভুত এক ছত্রাক। শেষ মুহূর্তে তার মাথার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে মাশরুমের মতো ফুলে ওঠা অংশ— ঠিক যেন কোনো হরর সিনেমার দৃশ্য! সম্প্রতি প্রায় ১০ কোটি বছর পুরনো এক টুকরো অ্যাম্বারে (এক প্রকার জীবাশ্ম বা ফসিল যা গাছের রজন থেকে তৈরি হয়) তেমনই এক ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখতে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
চীনের ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ইউহুই ঝুয়াং জানান, এমন আবিষ্কার খুবই বিরল। হাজার হাজার অ্যাম্বারের নমুনার মধ্যে হাতেগোনা কিছুতে এমন পরজীবী ও পোকামাকড়ের সম্পর্কের প্রমাণ মিলেছে। এবার পাওয়া গেছে নতুন দুটি প্রজাতি— একটির নাম দেয়া হয়েছে প্যালিওওফিওকার্ডিসেপস জেরোন্টোফর্মিকা, যা পিঁপড়ায় পাওয়া গেছে। অন্যটির নাম প্যালিওওফিওকার্ডিসেপস আয়রোনোমাইয়া, এটি একটি মাছিতে ধরা পড়েছে।
এখনো কিছু ওফিওকার্ডিসেপস প্রজাতি আছে, যেগুলোকে বলা হয় ‘জম্বি অ্যান্ট ফাংগাস’। এগুলো পিঁপড়ার শরীরে ঢুকে মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ করে, শেষে তাকে মেরে ফেলে। জনপ্রিয় ভিডিও গেম আর সিরিজ দ্য লাস্ট অব আস এর পেছনের অনুপ্রেরণাও এই ফাংগাস।

ছত্রাকের আক্রমণে মারা যাওয়া একটি মাকড়সা। ছবি- সিএনএন
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ফসিলে পাওয়া প্রাচীন ছত্রাকগুলোও হয়তো একইভাবে তাদের শিকারকে নিয়ন্ত্রণ করত।
ওয়াশিংটনের স্মিথসোনিয়ান মিউজিয়ামের গবেষক কনরাড লাবান্দেইরা জানান, পিঁপড়াই সম্ভবত শুরু থেকেই এসব ফাংগাসের মূল লক্ষ্য ছিল। তবে মাছির মধ্যে এমন নমুনা পাওয়া বিরল। তাই এর গুরুত্ব অনেক। ডেনমার্কের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের জোয়াও আরাউহো মনে করেন, এই প্রাচীন প্রজাতিগুলো বর্তমান জম্বি ফাংগাসের পূর্বপুরুষ হতে পারে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ওই পোকাগুলো মারা যাওয়ার পর গাছের আঠায় আটকা পড়ে অ্যাম্বারে রূপ নিয়েছে। নিউ জার্সি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অধ্যাপক ফিল বার্ডেনের মতে, এই হারিয়ে যাওয়া ছত্রাক বৈচিত্র্য একসময় পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের অধ্যাপক এডমুন্ড জারজেমবোভস্কি বলেন, ‘এখন প্রকৃতির যে অদ্ভুত দিকগুলো আমরা দেখতে পাই, তার কিছু আসলে ডাইনোসরের যুগেও ছিল। এটা ভেবেই মনে শিহরণ জাগে।’
—সিএনএন










