মনোমুগ্ধকর পাহাড়ি অঞ্চল থেকে শুরু করে বিশ্ববিখ্যাত পুডিং, নানা কারণে ইয়র্কশায়ার কাউন্টি বিখ্যাত। নতুন করে এ কাউন্টির বিশেষত্বের তালিকায় যোগ হয়েছে আরো একটি নতুন কৃতিত্ব। বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছেন যে, প্রায় ৪৩ মিলিয়ন বছর আগে একটি বিশাল অ্যাস্টেরয়েড সমুদ্রের তলদেশে আঘাত হেনেছিল। আর এ মহাজাগতিক ঘটনারই প্রমাণ মিলেছে ইয়র্কশায়ারের উপকূল থেকে প্রায় ৮০ মাইল দূরে অবস্থিত ‘সিলভারপিট ক্রেটার’-এ। খবর ডেইলি মেইল।
ক্রেটার সমুদ্রের তলদেশে অবস্থিত বিশাল গর্তকে বোঝায়। সিলভারপিট ক্রেটারটি প্রথম আবিষ্কৃত হয় ২০০২ সালে। আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকে গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এটি ভূতত্ত্ববিদদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। প্রাথমিক গবেষণাগুলো ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, ১.৮ মাইল প্রশস্ত এই গর্তটি একটি অ্যাস্টেরয়েড বা ধূমকেতুর আঘাতের ফলে সৃষ্টি হয়েছে।
তবে, কিছু বিজ্ঞানী এতে নিশ্চিত ছিলেন না। তাদের মতে, এই গর্তটি হয়তো গর্তের নিচে লবণের স্তর সরে যাওয়ার কারণে, অথবা আগ্নেয়গিরির কারণে সমুদ্রতল ধসে পড়ার ফলে তৈরি হয়েছে।
এ রহস্যের সমাধান করতে হেরিয়ট-ওয়াট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল ব্যবহার করে সিসমিক ইমেজিং ডেটা এবং সমুদ্রতলের নিচ থেকে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ। গবেষণাটির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এটি একটি ইমপ্যাক্ট ক্রেটার, অর্থাৎ মহাজাগতিক বস্তুর আঘাতে সৃষ্টি হওয়া গর্ত। এর ফলে সিলভারপিট ক্রেটার এখন মেক্সিকোর চিক্সুলুব ক্রেটার-এর সঙ্গে একই শ্রেণিতে স্থান পেয়েছে—যেখানে ৬৬ মিলিয়ন বছর আগে সেই বিখ্যাত অ্যাস্টেরয়েডটি আঘাত করেছিল, আর একেই ডাইনোসরদের বিলুপ্তির কারণ হিসেবে দেখা হয়।
গবেষণাটির প্রধান লেখক ড. ইউইসেডান নিকলসন ব্যাখ্যা করেন, ‘আমাদের প্রমাণাদি দেখায় যে, একটি ১৬০ মিটার চওড়া অ্যাস্টেরয়েড পশ্চিম দিক থেকে নিচু কোণ বরাবর এসে সমুদ্রতলে আঘাত করেছে।’
তিনি আরো যোগ করেন, মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে এটি ১.৫ কিলোমিটারের উঁচু পাথর ও পানির পর্দা তৈরি করে, যা পরে সমুদ্রে ধসে পড়ে এবং ১০০ মিটার উঁচু সুনামি সৃষ্টি করে। কেননা এটি চওড়ায় প্রায় ১৬০ মিটারের বিশাল অ্যাস্টেরয়েডে আকার ছিল মিসরের গ্রেট পিরামিড অব গিজার সমান।
এ আবিষ্কার ইয়র্কশায়ারের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় যোগ করেছে, যা আগে কল্পনাও করা হয়নি। এছাড়াও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত দলটি আশা করছে, তাদের এই অনুসন্ধানের ফলাফল ব্যবহার করে কীভাবে ইতিহাসজুড়ে অ্যাস্টেরয়েডের আঘাত পৃথিবী নামক আমাদের এ গ্রহকে বর্তমান রুপ দিয়েছে তা জানতে পারা যাবে। এবং ভবিষ্যতে যদি এমন কোনো সংঘর্ষ ঘটে, তাহলে কী ঘটতে পারে এখন সেটারও পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব হবে।










