মৃগী রোগ নিয়ে বাংলাদেশে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। মানুষ এখনো এ রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানে না। যার কারণে তাদের সঠিক নিয়মে চিকিৎসাও হয় না। বৈদ্য বা কবিরাজদের ঝাড়ফুঁকের মতো অপচিকিৎসার আশ্রয় নিতে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে মৃগী রোগে আক্রান্তরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।
মৃগী রোগের চিকিৎসায় ঝাড়ফুঁক নয়, অন্য সাধারণ রোগের মতো সঠিক চিকিৎসায় মৃগী রোগীও সম্পূর্ণ সুস্থ হতে পারে। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে মৃগী রোগের উপসর্গ অন্য কোনো রোগের উপসর্গ হিসেবেও দেখা দিতে পারে। তাই পরিবারের কারো মৃগী রোগের উপসর্গ দেখা দিলে বৈদ্য কিংবা কবিরাজের অপচিকিৎসা না নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জরুরি।
মৃগী রোগ নিয়ে সমাজে অনেক কুসংস্কার প্রচলিত আছে। কেবল রোগের ইতিহাস ও খিঁচুনির ভিডিও দেখে কোনো রকম দামি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই এ রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। ৯০ শতাংশ রোগী ওষুধ খেয়ে ভালো থাকে। ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে রোগী দুই থেকে পাঁচ বছর ওষুধ খেয়ে রোগমুক্ত হয়ে যায়। এছাড়া মৃগী রোগে আক্রান্ত নারীরা গর্ভধারণের আগে ও গর্ভকালে নিউরোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শে নিয়মিত ওষুধ সেবন করে সুস্থ থাকতে পারেন এবং সুস্থ বাচ্চা জন্ম দিতে পারেন।
অসুখ নির্ণয়ের পরই মৃগী রোগের চিকিৎসা শুরু করতে হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, প্রথমবার খিঁচুনি হলেই সাধারণত ওষুধ দেয়া হয় না। দ্বিতীয়বার খিঁচুনি বা অজ্ঞান হওয়ার পর ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হয়। তবে ইইজি, সিটি স্ক্যান বা এমআরআইয়ে মস্তিষ্কে কোনো অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হলে প্রথমবারের পরও ওষুধ শুরু করা যায়।
তবে চিকিৎসা শুরুর আগে কাউন্সেলিং করা প্রয়োজন। কারণ মৃগী রোগের চিকিৎসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো রোগী বা রোগীর মা-বাবাকে কাউন্সেলিং করা। প্রথমে অসুখ সম্পর্কে তাদের বিস্তারিত জানাতে হবে। রোগটি কী ধরনের, কেন হয়েছে, কত দিন থাকতে পারে, ওষুধ কীভাবে খেতে হবে, এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে কিনা—এসব বিষয়ে জানাতে হবে। ওষুধ খাওয়ার মাধ্যমেও এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়, এ ব্যাপারে রোগীর মা-বাবাকে জানাতে হবে।
রোগীর চিকিৎসা সম্পর্কেও পুরোপুরি ধারণা দিতে হবে। যেমন ওষুধ কীভাবে শুরু করবেন, ওষুধ যেন বন্ধ না করেন, ওষুধ খাওয়া বন্ধ করলে কী হতে পারে—অবশ্যই এ সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করা যাবে না।
তৃতীয়ত ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। এ ওষুধ খেলে কী কী অসুবিধা হতে পারে বা অন্যান্য উপসর্গ কী কী আসতে পারে, তা রোগীকে জানাতে হবে। মৃগী রোগের ওষুধের অনেক মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। ওষুধের সঙ্গে অন্য কোনো ওষুধ খেতে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়। কারণ অন্যান্য ওষুধের কারণে এ ওষুধের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।










