টেলিযোগাযোগ সেবাদানকারী গ্রামীণফোন সম্প্রতি তাদের সিলেট ডেটা সেন্টারে ৩২৫ কিলোওয়াট-পিক সক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করেছে। প্রতিষ্ঠানটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জেডটিই বাংলাদেশের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে ৪৫০টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে, যা দেশের যেকোনো ডেটা সেন্টারে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ।

নতুন চালু হওয়া সোলার প্লান্ট থেকে বছরে ৩০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রত্যাশা করছে গ্রামীণফোন। এতে বছরে প্রায় ১৮৮ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমবে।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির চিফ টেকনোলজি অফিসার আবুল কাসেম মহিউদ্দিন আল-আমিন, চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার অটো মাগনে রিসব্যাক, চিফ মার্কেটিং অফিসার ফারহা নাজ জামান এবং জেডটিই বাংলাদেশের সিইও মাও জুন্যং উপস্থিত ছিলেন।

গ্রামীণফোন জানিয়েছে, ২০১৯ সালের ভিত্তিবছরের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। সিলেট ডেটা সেন্টারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের উদ্যোগ এ লক্ষ্য অর্জনের অংশ। ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সেবার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অবকাঠামোর পরিবেশগত প্রভাব কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াচ্ছে গ্রামীণফোন।

প্রতিষ্ঠানটির সিইও ইয়াসির আজমান বলেন, ‘বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য নির্ভরযোগ্য ও ভবিষ্যৎ উপযোগী অবকাঠামোর পাশাপাশি পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা জরুরি। কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গ্রামীণফোনের সব কার্যক্রমে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার ও টেকসই উদ্যোগ বাড়ানো হচ্ছে। সিলেট ডেটা সেন্টারের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র এ প্রচেষ্টার একটি বাস্তব পদক্ষেপ।’

উন্নত প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বয়ে জ্বালানিসাশ্রয়ী এবং টেকসই ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করনে জেডটিই বাংলাদেশের সিইও মাও জুন্যং। তিনি বলেন, ‘গ্রামীণফোনের সঙ্গে এ যৌথ উদ্যোগ কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি দেশের প্রযুক্তি খাতে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।’