পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বাটা সু কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) আয় ১১ শতাংশ বেড়েছে। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির রেভিনিউ হয়েছে প্রায় ৭৮০ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৭০০ কোটি টাকা। এছাড়া এ সময়ে কোম্পানিটির নিট মুনাফাও বেড়েছে। কোম্পানি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আলোচ্য প্রান্তিকে বাটা সুর পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৯০ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৯ কোটি টাকা। এ সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৪৫ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৩ কোটি টাকা।

চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বাটা সুর শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩৩ টাকা ২১ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ৯ টাকা ৩২ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২১১ টাকা ৪৩ পয়সায়।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের মোট ২৪৮ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। এর মধ্যে ১০৫ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ ও ১৪৩ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে বাটা সুর ইপিএস হয়েছে ৮৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২১ টাকা ৬২ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৮৮ টাকা ৭২ পয়সায়।

২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের মোট ৪৪৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। এর মধ্যে ১০৫ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ ও ৩৪০ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরের বাটা সুর ইপিএস হয়েছে ২১ টাকা ৬২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২৯ টাকা ৩১ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২২০ টাকা ২২ পয়সায়।

২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে বাটা সুর ইপিএস হয়েছে ২৯ টাকা ৩১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২৯ টাকা ৯৮ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষ কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৩৭ টাকা ৯৩ পয়সায়।

২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৩৬৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে বাটা সুর পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২৯ টাকা ৯৮ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৫ টাকা ১ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৫২ টাকা ১৬ পয়সায়।

২০২১ হিসাব বছরের জন্য ২৫ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ দেয়ার সুপারিশ করেছে বাটা সু কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ।

সমাপ্ত হিসাব বছরে বাটা সু কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫ টাকা ১ পয়সা। যেখানে আগের হিসাব বছরে লোকসান ছিল ৯৬ টাকা ৮৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৫২ টাকা ৩০ পয়সায়।

২০২০ হিসাব বছরে বাটা সু বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। যেখানে এর আগের ২০১৯ হিসাব বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ১২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ২০২০ হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয় ৯৬ টাকা ৯৪ পয়সা। যেখানে এর আগের বছরে ইপিএস ছিল ৩৬ টাকা।

২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটেইনড আর্নিংসের ওপর ভিত্তি করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১২৫ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি। ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমান্ত হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১০৫ শতাংশ চূড়ার নগদ লভ্যাংশ দেয় তারা। তার আগে ওই বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের নিট মুনাফার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন ২৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি।

বাটা সু কোম্পানি লিমিটেডের সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘‌এএএ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘‌এসটি-১’। কোম্পানিটির ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছর থেকে ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যায়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ লিমিটেড।

১৯৮৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বাটা সুর অনুমোদিত মূলধন ২০ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২৫৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮০ হাজার। এর ৭০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৯ দশমিক ৬২ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে ১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।