বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ছোটদের মাম্পসে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। তাই বলে বড়দের যে মাম্পস হয় না তা কিন্তু নয়। মাম্পস হলো লালাগ্রন্থির এক ধরনের ভাইরাস সংক্রমণে সৃষ্ট প্রদাহ। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এ ভাইরাস ছড়ায়। ফলে জ্বর, মাথাব্যথার সঙ্গে গলা ও কানের নিচে দুই পাশে লালাগ্রন্থি ফুলে যায়, খাবার গিলতে ব্যথা হতে পারে।

প্রাপ্তবয়স্করাও মাম্পসে আক্রান্ত হতে পারে। তবে টিকা দেয়ার কারণে এ সংখ্যা অনেক কম। তবে যারা এখনো টিকা দেয়নি বা যাদের ছোটবেলায় মাম্পস হয়নি তারা ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্করা মাম্পসে আক্রান্ত হলে এর ভয়াবহতাও বেশি হতে পারে। যেমন ডিম্বাশয়ের প্রদাহ বা প্যানক্রিয়াটাইটিস, মেনিনজাইটিসেও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে শ্রবণশক্তি হ্রাস বা গর্ভপাত হতে পারে।

প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে যে লক্ষণগুলো দেখা দেয় সেগুলো শিশুদের মতোই এবং এর মধ্যে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশি ব্যথা, ক্লান্তি ও লালাগ্রন্থির ফুলে যাওয়াও হতে পারে।

মাম্পস হলে প্রচুর পানি খেতে হবে। মিষ্টি পানীয় বা জুস ইত্যাদি এড়িয়ে যেতে হবে। কারণ এগুলো লালাগ্রন্থিকে উদ্দীপ্ত করে ব্যথা বাড়াবে। তরল বা আধা তরল নরম খাবার খেলে ব্যথা কম হবে। ব্যথা কমানোর জন্য বরফ বা ঠাণ্ডা সেঁক দিতে হবে ফোলা জায়গার ওপর। প্যারাসিটামল খাওয়া যায়। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেয়া জরুরি। হালকা গরম লবণ-পানি দিয়ে গরগরা করা যায়। পুরুষদের মাম্পসের সঙ্গে শুক্রাশয়ে ব্যথা থাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।