সম্প্রতি দেশে চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, তিন-চার মাসে এ রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। চিকুনগুনিয়া মশাবাহিত রোগ। ডেঙ্গু রোগের ভাইরাস যে এডিস মশা বহন করে, সে মশাই চিকুনগুনিয়া ভাইরাসেরও বাহক। বিশেষজ্ঞরা জানান, এ জ্বর ভালো হলেও আরো অন্তত দুই মাস ভোগান্তি পোহাতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এ রোগের কোনো নির্দিষ্ট প্রতিকার নেই। লক্ষণ দেখে চিকিৎসা ঠিক করা হয়। এ রোগে মোট কতজন আক্রান্ত হয়েছে তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও এ বছর ডেঙ্গুর তুলনায় চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাই বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশে রোগটির প্রকোপ প্রথম দেখা যায়।
যেহেতু মশার কারণে রোগটি ছড়িয়ে থাকে, তাই মূল সতর্কতা হিসেবে মশার কামড় থেকে বাঁচার ব্যবস্থা করতে হবে। যেমন ঘরের বারান্দা, আঙিনা বা ছাদ পরিষ্কার রাখতে হবে, যাতে পানি পাঁচদিনের বেশি জমে না থাকে। এসি বা ফ্রিজের নিচেও যেন পানি না থাকে, তাও নিশ্চিত করতে হবে। যেহেতু মশা দিনের বেলায় কামড়ায়, তাই দিনের বেলায় কেউ ঘুমালে অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। মশা মারার জন্য স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। ছোট শিশুদের হাফপ্যান্টের বদলে ফুলপ্যান্ট পরাতে হবে, আর সবার খেয়াল রাখতে হবে যেন মশা ডিম পাড়ার সুযোগ না পায়।
ডেঙ্গু যেমন এডিস মশা থেকে হয়, এটাও এডিস মশা থেকেই হচ্ছে। বৃষ্টির পানি অনেকের বাসাবাড়ির ছাদে বা বারান্দার টবে জমে থাকে। সেখানে এসব এডিস মশা ডিম পাড়ে। ফলে মশা বেড়ে যায়, আর তাই রোগটির প্রকোপও বেড়ে যায়।
চিকুনগুনিয়া রোগের প্রথম দিন থেকেই রোগীর অনেক বেশি তাপমাত্রায় জ্বর ওঠে। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে, আর প্রায়ই তা ১০৪-১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় উঠে যায়। একই সঙ্গে প্রচণ্ড মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, বিশেষ করে হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা হয়। গ্রামগঞ্জে অনেকে একে ল্যাংড়া জ্বরও বলে। জ্বর চলে যাওয়ার পর শরীরে লাল র্যাশ ওঠে। জ্বর ভালো হলেও রোগটি অনেক দিন ধরে রোগীদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।










