বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশে এইচএমপিভি আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। যার কারণে বিশেষজ্ঞরা এটি কতটা ভয়াবহতার সঙ্গে ছড়াতে পারে তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত নন।
তবে গবেষণাগুলোয় দেখা যায়, নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে শীতের শেষে এবং বসন্তের শুরুতে এইচএমপিভির প্রবণতা দেখা গেছে। এটির ধরন অন্যান্য বাকিসব সাধারণ ফ্লুর মতোই। এটি এখনো ভয়াবহ রূপে ছড়িয়ে পড়েনি। বছরব্যাপী অল্পসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। তবে তা এখনো বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েনি।
এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে বেশি থাকে নবজাতক শিশু এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা। এছাড়া বয়স্ক, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, সিওপিডি আক্রান্ত, যাদের হাঁপানি আছে এমন গুরুতর অসুখের ব্যক্তিরা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণের জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
করোনাভাইরাস, ফ্লু ও এইচএমপিভি এ ধরনের ভাইরাসগুলোয় আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলো প্রায় একই। তাই লক্ষণ দেখে কে কোন ভাইরাসে আক্রান্ত তা চেনা দায়। তবে চিকিৎসাক্ষেত্রে রয়েছে ভিন্নতা। বিশেষ করে এসব ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হলে চিকিৎসার ভিন্নতা রয়েছে। করোনাভাইরাস ও ইনফ্লুয়েঞ্জার নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে চিকিৎসকরা কারণ শনাক্ত করতে ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা ব্যবহার করতে পারেন।
মানুষ মেটানিউমোভাইরাসে আক্রান্ত হলে সাধারণত ঠান্ডা বা ফ্লুর মতো লক্ষণ সৃষ্টি করে। তবে একজন ব্যক্তি কতটা অসুস্থ হবেন তা তার সামগ্রিক স্বাস্থ্যসহ অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। এছাড়া যেহেতু ভাইরাসগুলো বিকশিত হতে পারে তাই তাদের তীব্রতা পরিবর্তিত হতে পারে। এ পরিবর্তনগুলো পর্যবেক্ষণ করার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বব্যাপী বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করছে।
সাধারণ ফ্লুতে আক্রান্ত হলে যে ধরনের ওষুধ দেয়া হয়, এ রোগে আক্রান্ত হলেও একই ধরনের ওষুধ দেয়া হয়। এখনো এ ভাইরাসের সঙ্গে মোকাবেলা করার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। তবে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রচুর বিশ্রাম নেয়া জরুরি এবং প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার খাওয়া জরুরি। তবে লক্ষণগুলো গুরুতর হলে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। যারা বেশি ঝুঁকিতে আছেন তাদেরও চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। এমনকি যদি তাদের লক্ষণগুলো খুব বেশি খারাপ না হয় খুব কমসংখ্যক ক্ষেত্রে, যখন লোকেদের হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হয়, অবস্থা বেশি খারাপ হলে অক্সিজেন দেয়ার দরকার পড়তে পারে।










