অল্প বয়সেই আমাদের শরীরে বাসা বাঁধছে অনেক রোগ। পরিবর্তন এসেছে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে। যার কারণে শরীরে দেখা দিচ্ছে নানা রোগ। এজন্য শুধু ডায়াবেটিস, হার্টের রোগ কিংবা রক্তচাপ নয়, দেখা দিচ্ছে জরায়ুর রোগ। অল্প বয়স থেকে বহু মেয়ের দেখা দিচ্ছে ইউটেরাসের সমস্যা, গাইনি সমস্যা, মাসিক নিয়ে সমস্যা, কখনো গর্ভধারণে সমস্যা। ইউটেরাস বা জরায়ু সুস্থ রাখতে খেতে পারেন কয়েকটি খাবার। জেনে নিন কী কী খেলে সুস্থ থাকবেন।

খাদ্যতালিকায় রাখুন ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার। এ ধরনের খাবার আপনার শরীর থেকে টক্সিন ও বর্জ্য দূর করতে সাহায্য করে। এ ধরনের খাবার শরীরে সঞ্চিত অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন অপসারণে সাহায্য করে। জরায়ু ফাইব্রয়েড গঠনে বাধা দেয়। ফাইব্রয়েডের উৎস হিসেবে মটরশুঁটি, লেবু, শাকসবজি, ফল ও শস্য খেতে পারেন। সঙ্গে প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা জরুরি।

খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিনসমৃদ্ধ সবজি রাখতে হবে। ফাইব্রয়েডের ঝুঁকি কমাতে সবুজ সবজি খাওয়া উচিত। খাওয়া যাবে লেবু, বাঁধাকপি, ব্রকলি। এসব সবজি ফাইটোস্ট্রোজেন সমৃদ্ধ। ফাইটোস্ট্রোজেন ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমিয়ে দেয়। ফলে জরায়ুতে টিউমারের বৃদ্ধি রোধ হয়।

ভিটামিন সি ও বায়োফ্ল্যাভোনয়েড সমৃদ্ধ ফল খেতে হবে। এগুলো জরায়ুতে ফাইব্রয়েডের বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। ইস্ট্রোজেনের মাত্রা ঠিক রাখে। এতে ওভারিয়ান ক্যান্সার থেকে রক্ষা পেতে পারেন।

দই, পনির, দুধ ও মাখন নিয়মিত খেতে হবে। এগুলোয় ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম আছে, যা হাড় সুস্থ রাখার সঙ্গে জরায়ুর স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এটি জরায়ু ফাইব্রয়েডের ঝুঁকি কমায়। তাই জরায়ুর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চাইলে রোজ দুগ্ধজাতীয় খাবার খেতে পারেন। এতে শরীর সুস্থ থাকবে।

গ্রিন টিতে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এ চা একদিকে যেমন জরায়ু ভালো রাখে, তেমনই সুস্থ রাখে শরীর। ওমেগা ৩ যুক্ত পরিপূর্ণ মাছ খাওয়া যায়। এতে রয়েছে ফ্যাটি অ্যাসিড, যা শরীরের প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিমের উৎপাদন কমায়। তেমনই এতে থাকা একাধিক যৌগ জরায়ু ভালো রাখে।

পাতি লেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, যা আমাদের শরীর সুস্থ রাখে। এটি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। সঙ্গে জরায়ুর স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

বাদামে রয়েছে ওমেগা ৩ ও ভালো কোলেস্টেরল। এটি শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ এ খাবার জরায়ুর ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। রোজ খাদ্যতালিকায় রাখুন বাদাম। এটি গর্ভাবস্থায়ও খেতে পারেন। এতে গর্ভস্থ বাচ্চার বিকাশে সহায়ক হবে।