বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন যে, তারা ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোম (এমই/সিএফএস) নামে পরিচিত দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি শনাক্তের জন্য বিশ্বের প্রথম নির্ভুল রক্ত পরীক্ষার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। বর্তমানে এই রোগের নির্ণয় নির্ভর করে মূলত উপসর্গের ওপর। যার ফলে বহু রোগী বছরের পর বছর ধরে রোগ নির্ণয় ছাড়াই ভোগেন। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

ইউইএ নরউইচ মেডিকেল স্কুলের প্রধান গবেষক প্রফেসর দিমিত্রি পশেঝেতস্কি বলেন, এমই/সিএফএস একটি গুরুতর এবং অনেকাংশেই আক্রান্তকে অক্ষম করে দেয়ার মতো অসুস্থতা। এ রোগে এমন ক্লান্তি আসে যা বিশ্রামেও দূর হয় না। সুনির্দিষ্ট কোনো পরীক্ষা না থাকায় অনেক রোগী ভুলভাবে নির্ণয় বা নির্ণয় ছাড়াই থেকে যান।

তিনি আরো বলেন, আমাদের আবিষ্কার রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করতে একটি সহজ, নির্ভুল রক্ত পরীক্ষার সম্ভাবনা তৈরি করেছে, যা দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

ইউইএ এবং অক্সফোর্ড বায়োডাইনামিক্স-এর বিজ্ঞানীরা এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের ডিএনএ কীভাবে ভাঁজ হয়, তা পরীক্ষা করেন। এই ভাঁজের ধরনে এমই/সিএফএস এর স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। গবেষকরা ৪৭ জন গুরুতর এমই/সিএফএস রোগী এবং ৬১ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের রক্ত নমুনা পরীক্ষা করেন। তারা একটি নির্দিষ্ট বিন্যাস আবিষ্কার করেছেন যা এমই/সিএফএস রোগীদের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে দেখা যায়। তবে এটি সুস্থ মানুষের মধ্যে অনুপস্থিত।

'জার্নাল অব ট্রান্সলেশনাল মেডিসিন'-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, এই পরীক্ষার সংবেদনশীলতা ৯২% এবং নির্ভুলতা ৯৮%।

তবে গবেষণাটির অর্থায়নকারী এবং সহ-লেখক, অক্সফোর্ড বায়োডাইনামিক্স-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আলেকজান্দ্র আকুলিচেভ বলেন, অসুখটি বংশগত নয়। তাই আমরা স্থির জিনগত কোড নয়, পরিবর্তনশীল ‘ইপিজেনেটিক’ মার্কার ব্যবহার করেছি—যা জীবনের বিভিন্ন সময়ে বদলায়।

তবে গবেষণায় জড়িত ছিলেন না এমন কয়েকজন বিশেষজ্ঞ এ আবিষ্কারকে ক্লিনিক্যাল অনুশীলনে ব্যবহারের আগে আরো সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এমই অ্যাসোসিয়েশনের চিকিৎসা উপদেষ্টা ড. চার্লস শেফার্ড বলেন, গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখনই এটি ক্লিনিক্যাল ব্যবহারের উপযোগী বলা যাবে না। আরো বড় ও স্বাধীন গবেষণার মাধ্যমে ফল যাচাই করা দরকার।

এডিনবার্গ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ক্রিস পন্টিং বলেন, গবেষণার কিছু দাবি এখনই করা একটু তাড়াহুড়ো। এমনকি পরীক্ষাটি সত্যিই কার্যকর হলেও এর খরচ অনেক—প্রায় এক হাজার পাউন্ড হতে পারে।