বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষ খারাপ খাদ্যাভ্যাসের কারণে ক্যালসিয়ামের ঘাটতিতে ভুগছে। সমস্যাটি ধীরে ধীরে বড় আকার ধারণ করছে। রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা ৮ দশমিক ৮ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের নিচে নেমে গেলে শরীরে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়।
ক্যালসিয়ামের ঘাটতিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের হালকা অস্বস্তি থেকে শুরু করে গুরুতর জটিলতা পর্যন্ত লক্ষ করা যায়। যেমন শরীরে পেশিতে টান, হাত-পায়ে ঝিনঝিন অনুভূতি এবং নখ ভেঙে যাওয়া—এ ধরনের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিতে পারে। সাধারণত মনে করা হয় কম ক্যালসিয়ামের কারণে শুধু হাড়ের স্বাস্থ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি ছাড়াও আরো নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন দাঁতের সমস্যা, বিষণ্নতা এবং ত্বকের বিভিন্ন রোগ। হাইপোক্যালসেমিয়া জটিল আকার ধারণ করলে খিঁচুনি এবং হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতার মতো জীবন হুমকির সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই প্রাথমিক লক্ষণ প্রকাশ পেলেই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি।
ক্যালসিয়ামের ঘাটতির লক্ষণ (হাইপোক্যালসেমিয়া)
শরীর হাড় থেকে ক্যালসিয়াম সংগ্রহ করে রক্তে ক্যালসিয়াম বজায় রাখে, যার অর্থ ক্যালসিয়ামের স্বল্পতার হালকা লক্ষণগুলো তাৎক্ষণিকভাবে দেখা নাও দিতে পারে। অবস্থার অবনতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পিঠ এবং পায়ে পেশিতে টান অনুভব হয়। তাদের ত্বক শুষ্ক এবং খসখসে হয়ে যায়, নখ ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং চুল রুক্ষ হয়ে যায়। এ ঘাটতি প্রায়ই হাত-পা ও মুখের চারপাশে অসাড়তা এবং ঝিনঝিন করে দেখা দেয়।
লক্ষণ
স্মৃতি সমস্যা ও বিভ্রান্তি
ডিপ্রেশন, উদ্বেগ এবং বিরক্তি
গলায় পেশির খিঁচুনি যা শ্বাস-প্রশ্বাসকে প্রভাবিত করে
গুরুতর ক্ষেত্রে খিঁচুনি এবং অস্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন
কারণ
শরীর প্রস্রাবের মাধ্যমে খুব বেশি ক্যালসিয়াম হারিয়ে ফেলে, অথবা হাড় রক্তপ্রবাহে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম নির্গত করতে পারে না, যার ফলে হাইপোক্যালসেমিয়া হয়। থাইরয়েড সার্জারির পরে বা অটোইমিউন অবস্থার কারণে প্যারাথাইরয়েড হরমোনের (হাইপোপ্যারাথাইরয়েডিজম) নিম্নস্তরের ক্যালসিয়াম নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত করে। ভিটামিন ডির অভাব ক্যালসিয়ামের সঠিক শোষণকে বাধাগ্রস্ত করে। কিডনি সমস্যা ভিটামিন ডি সক্রিয়করণ এবং ক্যালসিয়াম ধারণ উভয়কেই প্রভাবিত করে।
জটিলতা
দীর্ঘমেয়াদি ক্যালসিয়ামের ঘাটতি থেকে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। হাড়ের ঘনত্ব হ্রাস পায় (অস্টিওপেনিয়া) ও অস্টিওপোরোসিসে পরিণত হয়, যার ফলে হাড় সহজেই ভেঙে যায়। শরীর দাঁত থেকে ক্যালসিয়াম শোষণ করে, যার ফলে ক্ষয়, ভঙ্গুর দাঁত এবং মাড়িতে জ্বালাপোড়া দেখা দেয়। বিষণ্নতা দেখা দিতে পারে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে হার্টে সমস্যা, বিপজ্জনক হৃৎস্পন্দনের সমস্যা ও খিঁচুনি। সঠিক চিকিৎসা ছাড়াই এ জটিলতাগুলো মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।










