বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, মোট প্রসবের ১০-১৫ শতাশং সি সেকশনের মাধ্যমে হওয়া উচিত। তবে বিশ্বে দিন দিন সি সেকশনের হার ক্রমাগত বেড়ে চলছে। বিশ্বে ১৯৯০ সালে সি সেকশনের হার ছিল ৭ শতাংশ। পরে তা বেড়ে ২০২১ সালে ২১ শতাংশে পৌঁছে। সি সেকশনের হার সবচেয়ে বেশি লাতিন আমেরিকায় ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে (৪৩ শতাংশ), সর্বনিম্ন আফ্রিকায় (৫ শতাংশ)। আগামী ১০ বছরে সি সেকশনের হার আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে তা ২৯ শতাংশে পৌঁছার প্রাক্কলন করা হয়।

বাংলাদেশেও সি সেকশনের হার বিগত বছরগুলোয় বেড়ে চলছে। ২০১৭ সালে সি সকেশনের হার ছিল ৩৩ শতাংশ। ২০২২ সালে তা বেড়ে গিয়ে হয় ৪৫ শতাংশ। ২০১৬ ও ২০১৮ সালে সি সেকশনের হার ছিল যথাক্রমে ৫১ ও ৭৭ দশমিক ১ শতাংশ। ডব্লিউএইচও বর্তমানে গর্ভবতী নারীদের অন্তত আটটি এএনসি (গর্ভকালীন পরিচর্যা) ভিজিট করার সুপারিশ করে, যাতে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো যায়। গর্ভাবস্থায় অন্তত দুবার আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানোর নির্দেশ দেয়া হয়। যদিও তা মানা হয় না। ফলে শিশু ও মায়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়। বাংলাদেশে ৫০ শতাংশেরও কম স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ইউএসজি সেবা রয়েছে। অনেক কমিউনিটি ক্লিনিকে এএনসি সেবা আছে, তবে ইউএসজি সেবা নেই।

২০১৬ সালে ডব্লিউএইচও গর্ভকালীন পরিচর্যার সংখ্যা চার থেকে বাড়িয়ে আটে উন্নীত করে, যা প্রতি এক হাজার জীবিত শিশুর মধ্যে আটটি প্রসবজনিত মৃত্যু কমাতে পারে বলে ধারণা করা হয়। এ নতুন এএনসি স্ট্যান্ডার্ড মাতৃমৃত্যু কমাতেও কার্যকর, বিশেষ করে কিশোরী ও দুর্গম বা সংঘাতপূর্ণ এলাকার নারীদের ক্ষেত্রে। বিশ্বব্যাপী মাত্র ৬৪ শতাংশ গর্ভবতী নারী গর্ভাবস্থায় কমপক্ষে চারবার এএনসি সেবা নেন। এ ভিজিটগুলো গর্ভাবস্থার জটিলতা এবং ভ্রূণের সমস্যাগুলো আগে থেকেই শনাক্ত করতেও সাহায্য করে। জ্ঞানসম্পন্ন ও প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে এএনসিতে কাজ করা জরুরি। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো আটটি ভিজিটের পরিবর্তে চারটি এএনসি ভিজিট এবং দুটি ইউএসজির সুপারিশ মেনে চলে। যদিও ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে অন্তত একটি এএনসি ভিজিট নেয়া নারীর হার ৮২-৮৮ শতাংশ বেড়েছে।