মাসকুলার ডিস্ট্রোফি একটি বংশগত রোগ। এ রোগের কারণ হলো ডিস্ট্রোফিন নামক প্রোটিনের অভাব। ডিস্ট্রোফিন একটি প্রোটিন, যা পেশির কোষকে একসঙ্গে ধরে রাখতে সাহায্য করে। ডিস্ট্রোফিন প্রোটিন তৈরির জন্য একটি জিন দায়ী। এ জিনে যদি ত্রুটি থাকে তাহলে ডিস্ট্রোফিন প্রোটিন তৈরি হয় না বা সঠিকভাবে তৈরি হয় না। ফলে পেশি দুর্বল হয়ে যায় এবং ক্ষয় হতে থাকে। মাসকুলার ডিস্ট্রোফির একটি ধরন হলো ডাশেন মাসকুলার ডিস্ট্রোফি (ডিএমডি)। ডিএমডি হলো একটি বংশগত রোগ। এ রোগে শরীরের মাংসপেশিতে নিউট্রিশন পৌঁছায় না, তাই পেশিগুলো ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যায়। ফলে শরীরের এক পাশ ধীরে ধীরে শুকিয়ে যেতে থাকে দেখা যায়। এটি সাধারণত দুই থেকে পাঁচ বছরের ছেলেশিশুদের বেশি হয়ে থাকে, অন্যদিকে মেয়েদের ক্ষেত্রে কম দেখা যায়।
ডিস্ট্রোফিন পেশি কোষগুলোর ঝিল্লি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। তাই ডিস্ট্রোফিন নামক প্রোটিনের একটি ব্যাঘাত পেশি কোষকে প্রভাবিত করে, ফলে কোষের মধ্যে অ্যাট্রোফিক ও ডিস্ট্রোফিক পরিবর্তন হয়।
ডাশেন মাসকুলার ডিস্ট্রোফির (ডিএমডি) লক্ষণ:
পায়ের ওপরের অংশ, হাতের ওপরের দিক এবং কাঁধের পেশির দুর্বলতা
শরীরের কিছু জায়গার পেশি ভারী হয়ে যাওয়া
বসা বা দাঁড়াতে অসুবিধা, হাঁটাচলা করতে অসুবিধা এবং ঘন ঘন পড়ে যাওয়াসহ বিকাশগত বিলম্ব
শিশুদের অস্বাভাবিক নড়াচড়া
মেরুদণ্ডের বক্রতা (স্কোলিওসিস বা লর্ডোসিস)
হাড়ের ঘনত্ব হ্রাস, যা ফ্র্যাকচারের ঝুঁকি বাড়ায়
হালকা থেকে মাঝারি আকারের বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্বলতা
শেখার অক্ষমতা, মনোযোগের ঘাটতি বা অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার অল্প কিছু শিশুর মধ্যে দেখা যায়
হৃৎপিণ্ড ও শ্বাসযন্ত্রের পেশিকে প্রভাবিত করে কার্ডিও পালমোনারি জটিলতা কিশোর বয়সে দেখা যায়
সঠিক ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে শরীরের পেশিগুলোর শক্তি ও নমনীয়তা বজায় রাখা, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং রক্ত চলাচল উন্নত করা সম্ভব।










