সম্প্রতি দেশে রিওভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। রিওভাইরাস সাম্প্রতিক সময়ে শনাক্ত হলেও এটি নতুন কোনো রোগ নয়। বহু বছর ধরেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংক্রমণ ঘটাচ্ছে। এর উপসর্গ মৃদু হওয়ার কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগীরা বুঝতেও পারে না।

এ ভাইরাসের কারণে মৃত্যুঝুঁকি নেই বললেই চলে। সাধারণ জ্বর, ঠাণ্ডা-কাশির ওষুধেই রোগ সেরে যায়। তবে শিশু, বয়স্ক ও যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল তাদের ক্ষেত্রে কিছুটা জটিল হতে পারে। তাই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

অনেক ক্ষেত্রেই ভাইরাসজনিত রোগগুলোর স্নায়বিক চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। রিওভাইরাস এতটা ভয়াবহ না। অনেকেই অজ্ঞাতসারে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকে। তাদের শরীরে এ ভাইরাসের অ্যান্টিবডি থাকে। তাই আবার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে নিউমোনিয়া দেখা দিতে পারে। ১৯৫৪ সালে প্রথম এ ভাইরাসে আক্রান্তের পর থেকে এতদিন পর্যন্ত যত ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছে তাদের খুব কম সংখ্যকের মারাত্মক নিউমোনিয়া হয়েছে। খুব অল্পসংখ্যক ব্যক্তির মস্তিষ্কের প্রদাহ যেমন এনকেফালাইটিস ও মস্তিষ্কের পর্দার প্রদাহ যেটাকে মেনিনজাইটিস বলা হয় তা হতে পারে। তবে সেই সংখ্যা অতি নগণ্য।

এখন পর্যন্ত এ রোগের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা পাওয়া যায়নি। তবে লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হয়। রোগীর জ্বর, শরীর ব্যথা থাকলে প্যারাসিটামল দেয়া হয়। সর্দি-কাশির জন্য মন্টিলুকাস্ট অথবা ফেক্সোফেনাডিন বা রুপাটিডিন জাতীয় ওষুধ দেয়া যেতে পারে। ডায়রিয়া থাকলে শিশুকে ওরাল স্যালাইন খাওয়াতে হয়।