বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যখাতে নতুন এক অশনি সংকেত অ্যান্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্স। অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল ড্রাগ এমন এক ধরণের ওষুধ যা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এই ওষুধ মানুষ বা পশুর দেহে প্রয়োগ করলে এটি শরীরের ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে বা এর বংশবিস্তার রোধের মাধ্যমে রোগ নিরাময় করে। তাই ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে অ্যান্টিবায়োটিককে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক আশীর্বাদ বলা যায়। কিন্তু সেই অ্যান্টিবায়োটিক সঠিক উপায়ে প্রয়োগ না করলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

যদি কারো শরীরে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণজনিত রোগ হয় এবং সেই রোগ নিরাময়ে কেউ যদি চিকিৎসকের পরামর্শমত সঠিক পরিমাণে এবং পর্যাপ্ত সময় ধরে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ না করেন তাহলে ব্যাকটেরিয়াগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না হয়ে উল্টো আরো শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। তখন এই ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ওই অ্যান্টিবায়োটিক পরে আর কাজ করে না। অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের পরেও ব্যাকটেরিয়ার এই টিকে থাকার ক্ষমতা অর্জনকেই অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বলা হয়।

অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের সময় কিছু সতর্কতা মেনে চললে অ্যান্টিবায়েটিক রেজিস্ট্যান্সের হাতথেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব-

১. ডায়রিয়া বা পেট খারাপ হলেই অনেকে মেট্রোনিডাজল কিংবা অ্যাজিথ্রোমাইসিনজাতীয় ওষুধ (অ্যান্টিবায়োটিক) সেবন করে ফেলেন। অথচ বেশির ভাগ ডায়রিয়া এমনিতেই সেরে যায়। বরং ডায়রিয়া রোগীর পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণে বারবার ওরস্যালাইন দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক নয়, বরং ওরস্যালাইনই জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাব্যবস্থা।

২. সর্দি-কাশি, জ্বর কিংবা গলাব্যথার মতো সাধারণ মৌসুমি রোগবালাইয়ে অ্যান্টিবায়োটিক নয়, গ্রহণ করুন উপসর্গ উপশমকারী ব্যবস্থা।

৩. চিকিৎসক ছাড়া অন্য কারো পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। দোকানদারের পরামর্শে, অন্য কেউ এটা খেয়ে উপকার পেয়েছেন বলে বা আগে চিকিৎসক কখনো এ জাতীয় উপসর্গে দিয়েছিলেন বলে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া যাবে না।

৪. অ্যান্টিবায়োটিক সেবন শুরু করলে পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে হবে। মাঝপথে বন্ধ করা যাবে না। উপসর্গ উপশম হয়ে এলেও যত দিন নির্দিষ্ট করা হয়েছে, তত দিন পর্যন্ত অ্যান্টিবায়োটিক চালিয়ে যেতে হবে। আবার একটি অ্যান্টিবায়োটিক চলা অবস্থায় উপশম হতে সময় লাগছে বলে চট করে অন্য অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করাও অনুচিত।

৫. একজনের চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক অন্য কেউ সেবন করাও ঠিক নয়।

৬. প্যাকেট খোলার পর অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে খুব বেশি দিন দেরি করা যাবে না। শিশুদের ক্ষেত্রে একবার অ্যান্টিবায়োটিকের বোতল খোলা হলে পরবর্তী সময়ে অসুস্থ হলে ব্যবহারের জন্য রেখে দেয়া একদমই অনুচিত।

৭. সংক্রমণ প্রতিরোধে সব সময় সচেতন থাকতে হবে। নিয়মমাফিক হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশির আদবকেতা বজায় রাখা, কফ-থুতু এবং ব্যবহৃত টিস্যু ও রুমাল নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা, খাবার ঢেকে রাখার মতো সুঅভ্যাস বজায় রাখুন সব সময়। অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করার চেয়ে সংক্রমণ যাতে না হয়, সেদিকে নজর দিন বেশি।