ব্যায়াম হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী-এটি মোটামুটি সর্বজন স্বীকৃত স্বাস্থ্য তথ্য। কিন্তু নতুন এক গবেষণা বলছে, একই পরিমাণ ব্যায়ামে পুরুষের তুলনায় নারী তিনগুণ বেশি উপকার পান।

চীনের গবেষকদের পরিচালিত এ গবেষণাটি সম্প্রতি নেচার কার্ডিভাসকুলার রিসার্চে প্রকাশিত হয়েছে। এতে ব্রিটেনের ‘ইউকে বায়োব্যাংক’ ডাটাবেসের ৮৫ হাজার অংশগ্রহণকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এ ডাটাবেসে নারী-পুরুষদের স্বাস্থ্যগত জৈবিক ক্রিয়াকলাপ সাত বছর ধরে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা হয়।

একই ব্যায়ামে নারীদের বেশি লাভ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের ব্যায়াম নির্দেশিকা অনুযায়ী, সপ্তাহে প্রত্যেককে অন্তত ১৭৫ মিনিট মাঝারি থেকে ভারী ব্যায়াম করা উচিৎ। গবেষণায় দেখা গেছে—এ নির্দেশনা মেনে চলা পুরুষদের হৃদরোগের ঝুঁকি কমেছে ১৭ শতাংশ। যেখানে নারীদের হৃদরোগের ঝুঁকি ২২ শতাংশ কমেছে।

আরো আশ্চর্যের বিষয় হলো, একই মাত্রার ঝুঁকি কমাতে পুরুষদের তুলনায় নারীদের অনেক কম সময় ব্যায়াম করলেই চলে। ৩০ শতাংশ ঝুঁকি কমাতে পুরুষদের সপ্তাহে ৫৩০ মিনিট ব্যায়াম করতে হয়। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে একই মাত্রার ঝুঁকি কমাতে মাত্র ২৫০ মিনিট বা অর্ধেকের কম সময় ব্যায়াম করলেই চলে।

গবেষণা প্রধান চীনের শিয়ামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজেস-এর গবেষক জিয়াজিন চেন বলেন, ‘আমরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করেছি নারীরা মাত্র অর্ধেক পরিমাণ শারীরিক ক্রিয়াকলাপ করেই পুরুষদের সমান হৃদস্বাস্থ্যগত সুবিধা পেয়েছেন।’

ব্রিগহাম অ্যান্ড উইমেনস হসপিটাল ও ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হার্ট অ্যান্ড ভাসকুলার ইনস্টিটিউটের নারী হৃদস্বাস্থ্য পরিচালক ড. এমিলি লাউ বলেন, ‘শারীরিক ক্রিয়াকলাপে নারীরা সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন। কিন্তু বাস্তবে, পুরুষদের তুলনায় তারা কম ব্যায়াম করেন। এমনকি অনেকেই নির্দেশিত লক্ষ্য পূরণ করতে পারেন না। তাই এখন নারীদের উপযোগী পরামর্শ বা পদ্ধতি নির্ণয় করা জরুরি।’

কেন এমন পার্থক্য

কেন নারীরা তুলনামূলক বেশি উপকার পাচ্ছেন, তার কারণ গবেষণায় বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, নারীদের শরীরে বেশি মাত্রায় থাকা ইস্ট্রোজেন হরমোন হৃদ্‌স্বাস্থ্যে রক্ষাকারী ভূমিকা রাখে। এ কারণেই সাধারণত পুরুষদের তুলনায় নারীরা দেরিতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন।
এছাড়া, ইস্ট্রোজেন চর্বি ভাঙতে সহায়তা করে বলে ব্যায়ামের সময় পুরুষদের তুলনায় নারীদের শরীর এটি আরো দক্ষভাবে ব্যবহার করতে পারে। মাংসপেশির গঠন ও বিপাকক্রিয়াতেও নারী-পুরুষের পার্থক্য রয়েছে।

ভবিষ্যতের চিকিৎসা হবে আরো নির্দিষ্ট

জিয়াজিন চেন বলেন, ‘গবেষণার ফলাফল স্পষ্ট করছে, নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা হৃদরোগ প্রতিরোধ পরিকল্পনা তৈরি করা সম্ভব।’ তার সঙ্গে একমত হয়ে ড. লাউও বলেন, ‘এতদিন পুরুষদের তথ্য নিয়ে নারীদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছে। এখন এটা বন্ধ করতে হবে। ২০২৫ সালে এসে আমাদের গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল নির্দেশনা লিঙ্গভিত্তিক হওয়া জরুরি। পুরুষ ও নারী এক নয়, তাদের চিকিৎসা পরামর্শও এক হওয়া উচিত নয়।’

টাইম ম্যাগাজিন অবলম্বনে