মৃগী রোগের কারণে বেশি প্রভাবিত হন নারীরা। নারীর প্রজনন শুরু হয় ঋতুস্রাবের পর পরই। এ ঋতুস্রাবে মৃগী রোগের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব নারী মৃগী রোগী আছেন, তাদের ২০ থেকে ৬০ শতাংশের মাসিকের ওপর এর প্রভাব দেখা যায়। এ সময় ঋতুচক্র অনিয়মিত হয়। অনেক সময় ঋতুচক্র ২৫ থেকে ৩৫ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
বিয়ের পর এ রোগে আক্রান্ত অনেককেই জন্মবিরতিকরণ পিল সেবন করতে হয়। একই সময়ে অ্যান্টিএপিলেপটিক ওষুধ ব্যবহার করায় জন্মবিরতিকরণ পিলের (ওসিপি) বিপাকক্রিয়া বেড়ে যায়। ফলে তার ঘনত্ব কমে যায়। এজন্য স্বভাবতই গর্ভধারণের আশঙ্কা থেকে যায়।
নারীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে অনেকের ধারণা এটি একটি সংক্রামক রোগ। অনেকে সন্তান জন্মদানে ভয় পান। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় ওষুধ খেতেও ভয় পান। মৃগী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৯০ শতাংশ পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে (নরমাল) সন্তান জন্ম দিতে পারেন। তবে যাদের এ রোগ আছে তাদের সন্তান জন্মদানে উর্বরতার হারে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত প্রভাব পড়তে পারে।
মৃগী রোগের ওষুধ গর্ভাবস্থায় শিশুর ওপর কোনো ধরনের ক্ষতি করে না—এটি রোগীকে বোঝাতে হবে। চিকিৎসকের মতে, যদি ওষুধ প্রয়োগে দুই বছর রোগ ভালো নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে ছয় মাসের মাথায় ওষুধ কমিয়ে দেয়া যায়। সে সময় নিরাপদে গর্ভধারণ করা যায়।
তবে কিছু অ্যান্টিএপিলেপটিক ওষুধের প্রভাবে বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম হতে পারে। এজন্য গর্ভধারণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন। এ রোগে আক্রান্ত মায়ের দুধ সন্তান অবশ্যই পান করতে পারবে। এক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না। তবে ওষুধের প্রভাবে বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম বা নিউরাল টিউব ডিফ্যাক্ট হতে পারে। গর্ভবতী অবস্থায় রোগকে সবসময় একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে।
অনেক ক্ষেত্রে জন্মের সময় শিশু ও মা উভয়কে ভিটামিন কে দেয়া উচিত। কারণ কিছু ওষুধ ভিটামিন কে-এর বিপাকক্রিয়া বাড়িয়ে দেয়।










