নারী ও পুরুষ যে কেউ নাকের পলিপে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে মধ্যবয়স্কদের মধ্যে রোগটিতে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি। এটি মূলত নাকের সমস্যা হলেও জটিলতা বাড়লে মাথাব্যথাসহ ঘুমের ব্যাঘাতও তৈরি হয়। এতে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হতে থাকে। তবে রোগটির লক্ষণ-উপসর্গ দেখা দেয়ামাত্র চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে অতটা ভুগতে হয় না। সুচিকিৎসা গ্রহণ করে ভালো থাকা যায়।

নাকের পলিপ কী?

নাকের পলিপ খুব সাধারণ একটি রোগ। অ্যালার্জি বা নাকের কোনো সংক্রমণের ফলে এটি হয়ে থাকে। নাকের অভ্যন্তরের মিউকাস মেমব্রেন যদি পানি জমে ফুলে ওঠে, তখন এ অবস্থাকে নাকের পলিপ বা পলিপাস বলা হয়। এটি দেখতে অনেকটা আঙুর ফলের মতো।

লক্ষণ ও উপসর্গ

  • নাক বন্ধ হওয়ার মতো অনুভূতি
  • নাক দিয়ে পানি আসা
  • নাকের অ্যালার্জি
  • মাথাব্যথা, ঘুমের সমস্যা ও নাক ডাকা
  • কানব্যথা, গলাব্যথা
  • নাকে গন্ধ না পাওয়া ও কানে কম শোনা

ধরন

ইথময়েডাল পলিপ: নাকের দুই পাশের ইথময়েড সাইনাস মিউকোসা থেকে এ ধরনের পলিপের উৎপত্তি হয়, তাই একে ইথময়েডাল পলিপ বলা হয়। এটি সাধারণত মধ্যবয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

এন্ট্রোকোয়ানাল পলিপ: নাকের দুই পাশের ম্যাক্সিলারি সাইনাস থেকে এন্ট্রোকোয়ানাল পলিপ হয়। এ ধরনের পলিপ সচরাচর নাকের এক পাশে হয়ে থাকে। ২৫ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে এন্ট্রোকোয়ানাল পলিপে আক্রান্তের হার বেশি।

চিকিৎসা: আগে পলিপের অপারেশন কেটে করা হলেও বর্তমানে না কেটেই করা যায়। ফাংশনাল এন্ডোস্কোপিক সাইনাস সার্জারির মাধ্যমে খুব সহজে পলিপ অপসারণ করা যায়। আমাদের দেশে এটি এখন নিয়মিত চিকিৎসা। অপারেশনের পর সাধারণত এক সপ্তাহের মধ্যেই রোগী সম্পূর্ণ সুস্থতা লাভ করেন।

অপচিকিৎসায় বাড়ে রোগের জটিলতা

আগের অপচিকিৎসার কারণে বর্ধিত জটিলতা নিয়ে অনেকে চিকিৎসকের কাছে আসেন। এসব ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়, গ্রাম্য ডাক্তার বা কবিরাজের কাছে পলিপের চিকিৎসা নিয়েছেন তারা। এমন চিত্র গ্রামের রোগীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। নাকে পলিপ হয়েছে মনে করে রোগী টারবিনেটের চিকিৎসা নিয়ে ফেলেন। কবিরাজের দ্বারস্থ হলে তারা বিভিন্ন অ্যাসিড জাতীয় জিনিস তুলার ভেতর করে টারবিনেটে দিয়ে দেয়। টারবিনেট নরম টিস্যু, অ্যাসিড দেয়ার ফলে সেটি গলে যায়। তখন রোগীদের বলা হয় পলিপ ছোট হয়ে গেছে। ফলে নাকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়। অনেকের নাক বসে যায়। অনেকের মুখের চামড়ায় বার্নের মতো হয়ে যায়।

প্রতিরোধে করণীয়

  • অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদানের ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক থাকুন।
  • যাদের ডাস্ট অ্যালার্জি আছে, তারা পশমের তৈরি কম্বল ও তোয়ালে ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
  • নাকের ভেতরের লোম টেনে ছেঁড়ার চেষ্টা করবেন না। নাকে অকারণে আঙুল বা কটনবাড দেয়ার অভ্যাস পরিত্যাগ করুন।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন ও ভিটামিন সি জাতীয় খাবার বেশি বেশি খেতে পারেন।
  • নাকে মাঝেমধ্যে গরম পানির ভাপ নিতে পারেন।
  • বাসার মেঝে ও বিছানা সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন।
  • সর্দি-কাশি ও অ্যালার্জি বেশি হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে পরামর্শ গ্রহণ করুন।

লেখক: নাক, কান, গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ও হেড-নেক সার্জন, ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতাল

ধানমন্ডি, ঢাকা