জরায়ু ভালো রাখতে শিশুকাল থেকে মেনোপজের পর পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে যত্ন প্রয়োজন। নারীদের জীবনে এর সমস্যা খুব সাধারণ এবং চিরন্তন ঘটনা। জরায়ু সমস্যার লক্ষণগুলো জানা থাকলে সতর্ক থাকা সম্ভব আগে থেকেই।
অনেকেই মনে করেন জরায়ু শুধু সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে কাজ করে। জীবনের কয়েকটি পর্যায়ে জরায়ুর বিষয়ে বিশেষ যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে মাসিকের সময়, সহবাসের সময়, গর্ভকালীন সময় এবং মেনোপজের (মাসিক ঋতুচক্র চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়া) আগে ও পরে।
মাসিকের সময় স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করা প্রয়োজন। এ সময় ময়লা বা বেশি ভেজা ন্যাপকিন ব্যবহার করা ঠিক নয়। এ সময় মাঝে মাঝে গরম পানি ব্যবহার জরায়ুকে অনেক বেশি সুরক্ষা দেবে। এ সময় জরায়ুর মুখ খোলা থাকে। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা প্রয়োজন। তা না হলে জরায়ুতে ইনফেকশন বা অন্য কোনো সমস্যা হতে পারে। অতিরিক্ত জোরজবরদস্তি করে সহবাস করা ঠিক নয়। এতে জরায়ু আঘাত পেয়ে ইনফেকশন হতে পারে।
গর্ভকালীন সময়ে এবং প্রসব-পরবর্তী সময়েও জরায়ুর দিকে বিশেষ নজর দেয়া প্রয়োজন। ভ্রূণ জরায়ুতে অবস্থান করে এবং সেখানে বেড়ে ওঠে। তাই ভ্রূণ জরায়ুতে অবস্থান করছে কিনা বিষয়টি জানার জন্য গর্ভকালীন চেকআপ খুবই জরুরি। কেননা অনেক সময় দেখা যায় ভ্রূণ ডিম্বাশয়ে বা পেটের কোনো নালিতে বড় হতে থাকে। এতে অনেক জটিলতা সৃষ্টি হয়। অনেক সময় গর্ভকালীন জরায়ু বা প্রস্রাবে ইনফেকশন হতে পারে। এ সময়েও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং যৌন আচরণে সংযত হওয়া প্রয়োজন। তা না হলে ভ্রূণ বা জরায়ুর ক্ষতি হতে পারে।
সুস্থ জরায়ু একজন নারীর অন্যতম সম্পদ। তাই জরায়ু সমস্যার কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।










