করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে যাদের ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও অ্যাজমার মতো স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে তাদের অন্যদের তুলনায় ঝুঁকি কিছুটা বেশি। এ ধরনের রোগীদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে শরীর যাতে পানিশূন্য হয়ে না যায়। পর্যাপ্ত বিশ্রাম করাও জরুরি। একই সময় অন্যান্য ওষুধ চললে সেগুলোও চালিয়ে যেতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

হার্ট বা হৃৎপিণ্ড সুস্থ-সবল রাখতে খাদ্যাভ্যাস বেশ বড় ভূমিকা পালন করে। এজন্য বিশেষজ্ঞরা করোনাকালে খাদ্যাভ্যাসের দিকে বিশেষভাবে নজর দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। আঁশযুক্ত খাবার বেশি বেশি করে খেতে হবে। যেমন শাকসবজি। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেল আছে, যা হার্টের জন্য ভালো। তবে চর্বিযুক্ত খাবার কম খেতে হবে। যেমন গরু বা খাসির মাংস কম করে খেতে হবে। রান্নার সময় সয়াবিন তেলের পরিবর্তে উদ্ভিজ্জ তেল ব্যবহার করতে হবে। অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার, ফাস্টফুড পরিহার করতে হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ভাত, চিনি, লবণ—এ তিন ধরনের খাবার হার্টের জন্য ক্ষতিকর। এগুলো কম পরিমাণে খেতে হবে।

এছাড়া হার্টের সুস্থতার জন্য অবশ্যই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ধূমপান, গুল, জর্দা থেকে দূরে থাকতে হবে। নিয়মমাফিক হাঁটাচলা ও ব্যায়াম করতেই হবে। এভাবেই এ সময়ে একজন মানুষ হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

হৃদরোগের পাশাপাশি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরাও ঝুঁকিতে থাকে। ডায়াবেটিস রোগীদের ইমিউন সিস্টেম ভালোভাবে কাজ করে না, যার ফলে তাদের শরীরের জন্য করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করা কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া ডায়াবেটিস শরীরকে প্রদাহ প্রতিরোধের হার কমিয়ে দেয়। এটি যেকোনো সংক্রমণে শরীরের নিরাময় প্রতিক্রিয়াকে ধীর করে তোলে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে করোনা সংক্রমিত হলে সুস্থ হওয়া কঠিন করে তোলে।

এ সময় ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে থাকা জরুরি। আক্রান্তদের ভাইরাসের বিরুদ্ধে যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস বজায় রাখতে হবে। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা, সময়মতো ওষুধ খাওয়া এবং কার্যকরভাবে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য নিয়মিত চেকআপ করা জরুরি।