কিছুদিন ধরে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের প্রকোপ বেড়েছে। দুটিই এডিস মশাবাহিত রোগ, যার কারণে এ দুই রোগের উপসর্গও প্রায় কাছাকাছি। এ কারণে লক্ষণ দেখা দিলে রোগীদের প্রায়ই চিন্তায় পড়তে হয় ডেঙ্গু নাকি চিকুনগুনিয়া হয়েছে? ডেঙ্গু আর চিকুনগুনিয়া রোগের উপসর্গ কাছাকাছি হলেও বেশকিছু পার্থক্য রয়েছে। যেমন—শরীরে র‍্যাশ অথবা গুটি হওয়া। ডেঙ্গু রোগের ক্ষেত্রে এটি বহুলভাবে দেখা গেলেও চিকুনগুনিয়ার ক্ষেত্রে র‍্যাশ হতে তেমন দেখা যায় না। তবে ডেঙ্গু রোগের উপসর্গের ধরনও বর্তমানে অনেকটা পাল্টে গেছে।

ডেঙ্গুর উপসর্গ

  • ডেঙ্গু জ্বরে তীব্র তাপমাত্রা থাকে।
  • চার-পাঁচদিন পরে শরীরে লাল লাল র‍্যাশ হয়।
  • ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী অনেক সময় শক সিনড্রোমে চলে যায়।
  • রক্তের প্লাটিলেট কমে যায়। ফলে রক্তক্ষরণ হয়।
  • একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে।
  • ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর শরীরে ব্যথাও থাকে, তবে ততটা তীব্র নয়।
  • অনেক সময় ‘‌এক্সপান্ডেড ডেঙ্গু’ যেমন এ জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির লিভার, হার্ট, কিডনিসহ শরীরের নানা অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে সেই অনুযায়ী রোগীকে চিকিৎসা দিতে হয়।
  • বমি বমি ভাব ও খাবারে অরুচি থাকে।

চিকুনগুনিয়ার উপসর্গ

  • চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর প্রথমেই জ্বর হয়। কিন্তু দুই-তিনদিন পর জ্বরের তীব্রতা খুব একটা বেশি থাকে না। পরে থেমে থেমে আবার রোগী জ্বরে আক্রান্ত হয়। সেটা কখনো কখনো ১০২-১০৪ ডিগ্রিও হয়।
  • শরীরের প্রতি জয়েন্টে তীব্র ব্যথা থাকে। প্রায় সব মাসলেও এ ব্যথা থাকে। তীব্র ব্যথায় রোগী হাঁটা-চলা করতে পারে না, বসলে উঠতে পারে না এমন পরিস্থিতিও তৈরি হয়। চিকিৎসক মি. আব্দুল্লাহ জানান, এ জ্বরকে ‘‌ল্যাংড়া জ্বর’ও বলা হয়।
  • চিকুনগুনিয়া রোগের অন্যতম উপসর্গ জ্বরের পর রোগীর পুরো শরীরের গিরায় গিরায় ব্যথা হয়। হাত-পা ফুলে যায়।
  • শরীরে র‍্যাশ তেমন একটা হয় না বললেই চলে।
  • তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা হয়।
  • রক্তের প্লাটিলেট কমে যাওয়া বা রক্তক্ষরণ হয় না।
  • রোগী শক সিনড্রোমে চলে যাওয়া অথবা এ রোগে মৃত্যুঝুঁকি একদমই নেই।
  • অনেক সময় চিকুনগুনিয়া রোগে আক্রান্ত রোগীর স্কিন বা চামড়ায়ও প্রভাব পড়ে। অনেকের গায়ের রঙ কালো হয়ে যায়, চামড়া ওঠে। ডেঙ্গুতে র‍্যাশ হলেও শরীরের চামড়া কালো হয়ে যায় না।
  • এ রোগে মৃত্যুঝুঁকি না থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি ভুগতে হয় আক্রান্ত রোগীকে।
  • লিভার, হার্ট বা কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।
  • খাবারে অনীহা থাকে