কভিড আক্রান্ত রোগীরা সুস্থ হওয়ার পরও অনেক সময় শ্বাসকষ্টে ভুগে থাকে। সেরে ওঠার পর প্রধান কাজ হলো ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ানো। ফুসফুস পরিষ্কার থাকলে তা শ্বাস-প্রশ্বাস চলাচল সহজ করে তোলে। ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়াতে যা প্রয়োজন তা হলো:

ব্যায়াম : ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়ানোর সেরা উপায়গুলোর মধ্যে একটি হলো ফুসফুসের পেশির ব্যায়াম করা। এর ক্ষমতা ও কার্যকারিতা তৈরি করা। ফুসফুসের কার্যকারিতা উন্নত করার জন্য যে ব্যায়ামগুলো রয়েছে, তা অন্যান্য শারীরিক ব্যায়ামের মতোই কাজ করে। এটি ফুসফুসের ক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া : অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার শরীরের সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা উন্নত করে, যার ইতিবাচক প্রভাব ফুসফুসের ওপরও পড়ে। স্বাস্থ্যকর খাবার প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করতে পারে এবং ফুসফুসকে স্বাস্থ্যকর করে তুলতে পারে। 

 নিয়মিত ফল, সবজি, মসুর ডাল, মটরশুঁটি, বাদাম, শস্য, জুস, বাড়িতে রান্না করা খাবার এবং ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া।

 চিনি, চর্বি, তেল, প্রক্রিয়াজাত মাংস, প্রক্রিয়াজাত খাবার, লবণ, ক্যাফেইন, সিরাপ (ঘন চিনির উপাদান), অ্যালকোহল, ধূমপান, ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলতে হবে।  

 পানি ও তরলজাতীয় খাবার বেশি বেশি করে খেতে হবে। পানি শরীরের কার্যকারিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবন এড়িয়ে চলা: ধূমপান ফুসফুস ও ইমিউন কোষের গঠনগত এবং কার্যকর পরিবর্তন ঘটায়। ধূমপান ফুসফুসের স্বাস্থ্য এবং কার্যকারিতাকেই হ্রাস করে না, এটি অন্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। করোনা থেকে সেরে ওঠার পর ধূমপান অব্যাহত রাখলে দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের সমস্যা এবং সংক্রমণ হতে পারে। অ্যালকোহল আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ওপর একই রকম প্রভাব ফেলে। এটি ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে দেয়। ফলে শরীর সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে না।

দৈনন্দিন জীবনধারার সামান্য পরিবর্তনগুলো ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়াতে পারে এবং সহজে করোনা আক্রান্তের পর পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করতে পারে।