প্রতি বছর ২৯ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী স্ট্রোক দিবস পালিত হয়। এ দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্ট্রোক প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া। এছাড়া এদিন স্ট্রোক প্রতিরোধের উন্নত ও জরুরি চিকিৎসাসেবার অ্যাকসেস বৃদ্ধি, মৃত্যুঝুঁকি কমানো এবং এ রোগের চিকিৎসার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কীভাবে আরো সহযোগিতা বাড়ানো যায় সেদিকে নজর দেয়া হয়।

স্ট্রোক বিশ্বব্যাপী শারীরিক অক্ষমতার প্রধান কারণ এবং মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ। ২০২২ সালে প্রকাশিত গ্লোবাল স্ট্রোক ফ্যাক্টশিট অনুসারে গত ১৭ বছরে স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি ৫০ শতাংশ বেড়েছে এবং বর্তমানে প্রতি চারজনের একজনের জীবদ্দশায় স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি থাকে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ১৯৯০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত স্ট্রোকের ঘটনা ৭০ শতাংশ বেড়েছে, স্ট্রোকের কারণে মৃত্যু ৪৩ শতাংশ বেড়েছে। স্ট্রোকের প্রাদুর্ভাব ১০২ শতাংশ বেড়েছে এবং স্ট্রোকের কারণে শারীরিক অক্ষমতার হার ১৪৩ শতাংশ বেড়েছে। এ গবেষণায় যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি উঠে আসে তা হলো বিশ্বব্যাপী স্ট্রোকের ঝুঁকি নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোয় বেশি। নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোয় বসবাসরত বেশির ভাগ মানুষের আয় কম। যার কারণে এটি তাদের জন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থের অভাবে এবং সঠিক তথ্যের অভাবে তারা সময়মতো চিকিৎসাও নিতে পারছেন না, যার কারণে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে।

শ্রীলংকায় স্ট্রোকের ঘটনা সম্পর্কিত জাতীয় পর্যায়ের কোনো তথ্য নেই। তবে সে দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান অনুসারে, প্রায় ৬০ হাজার স্ট্রোকের রোগীর সরকারি হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড রয়েছে। যেখানে হাসপাতালে প্রায় চার হাজার জন মারা গেছে। উপরন্তু ২০১৪ সালে হাসপাতালে মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিল স্ট্রোক এবং ২০১৯ সালে তা সপ্তম কারণে পরিণত হয়েছে।

স্ট্রোকের প্রধান ক্লিনিক্যাল ঝুঁকির কারণগুলোর একটি হলো উচ্চ রক্তচাপ। অন্যান্য ঝুঁকির কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে তামাক সেবন, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্য, অ্যালকোহল সেবন, অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন, রক্তের লিপিডের মাত্রা বৃদ্ধি, স্থূলতা, জেনেটিক, মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা। স্ট্রোক করার পর যারা বেঁচে যায়, তাদের শারীরিক কিছু জটিলতা দেখা দেয়। যেমন শারীরিক অক্ষমতা, যোগাযোগের অসুবিধা, কাজের ক্ষতি, আয় ও সামাজিক অবস্থার অবনতি। সময়মতো চিকিৎসা জীবন বাঁচায় এবং শারীরিক অবস্থার উন্নতিতে সাহায্য করে।

স্ট্রোকের প্রধান লক্ষণগুলো হলো মুখ বাঁকা হয়ে যাওয়া এবং কথা বলার অসুবিধা বা কথা অস্পষ্ট থাকা। অনেকের দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যার সৃষ্টি হয় এবং ভারসাম্য হারানোর/ মাথা ঘোরা অনুভব হতে পারে। স্ট্রোকের লক্ষণগুলো জানা এবং অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসাসেবা জীবন বাঁচাতে এবং বেঁচে থাকাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারে। এ রোগ সম্পর্কে সঠিক ও পর্যাপ্ত জ্ঞান ব্যক্তির দ্রুত স্ট্রোক শনাক্ত করতে পারে, যা রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তর করার জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করে।