মূলত পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, শারীরিক পরিশ্রম ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে শিশুদের রোগবালাই থেকে দূরে রাখা যায়। শিশুর শরীরের স্বাভাবিক সুরক্ষা ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম মজবুত করার কার্যকর উপায়গুলো নিচে দেয়া হলো:

 সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টি 

শিশুর প্রতিদিনের খাবার তালিকায় ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। 

ফল ও সবজি: রঙিন ফল ও সবজি (যেমন: কমলা, পেয়ারা, গাজর, পালংশাক) ভিটামিন সি এবং অন্যান্য পুষ্টিগুণে ভরপুর থাকে, যা রোগ প্রতিরোধে সরাসরি সাহায্য করে।

প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার: ডিম, দুধ, মাছ, চর্বিহীন মাংস এবং ডাল শিশুর শরীরের কোষ গঠন এবং সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।

জিঙ্ক ও সেলেনিয়াম: বাদাম, বীজ ও দানা শস্য ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।

জাঙ্ক ফুড বর্জন: অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার, প্রসেসড ফুড বা জাঙ্ক ফুড শিশুর পুষ্টির ঘাটতি তৈরি করে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দেয়। 

 পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম 

ঘুমের সময় শরীর নিজেকে মেরামত করে এবং ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। 

শিশুর বয়স অনুযায়ী পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন (সাধারণত শিশুদের জন্য ১০-১২ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন)। 

 শারীরিক পরিশ্রম ও খেলাধুলা 

ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম শ্বেত রক্তকণিকার চলাচল বাড়িয়ে দেয়, যা জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। শিশুকে প্রতিদিন অন্তত ১ ঘণ্টা বাইরে খেলাধুলা বা দৌড়ঝাঁপ করতে উৎসাহিত করুন। 

 স্বাস্থ্যবিধি বা হাইজিন বজায় রাখা

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সরাসরি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায় না, তবে শরীরকে বারবার জীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে বিশ্রাম দেয়। বাইরে থেকে ফিরে, খাবারের আগে এবং টয়লেট ব্যবহারের পর ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। 

 সময়মতো টিকাদান (Vaccination)

শিশুকে সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সব টিকা দেয়া অত্যন্ত জরুরি। এটি বিভিন্ন মারাত্মক সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে শরীরে স্থায়ী সুরক্ষা তৈরি করে। 

 মানসিক প্রশান্তি

মানসিক চাপ বা অতিরিক্ত উদ্বেগ বড়দের মতো শিশুদেরও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। তাই শিশুর সঙ্গে হাসিখুশি সময় কাটান এবং তাকে মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে সাহায্য করুন।