এতদিন হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বুঝতে চিকিৎসকরা বিএমআই কিংবা কোমর ও নিতম্বের অনুপাতের ওপর নির্ভর করতেন। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় কিংসটন ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন, রোগীর ঘাড়ের পরিধি বা মাপ পরীক্ষা করলে ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে আরো নিখুঁত পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব।
ঘাড়ের মাপ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
কিংসটন ইউনিভার্সিটির প্রাণরসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ ও এলবেডিউই ও জেনেটিক্স বিশেষজ্ঞ ড. নাদিন ওহিদা জানান, ঘাড়ের মাপ মূলত শরীরের উপরিভাগের চর্বি জমার নির্দেশক। এ চর্বি রক্তে ফ্যাটি অ্যাসিড নিঃসরণ করে, যা কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করার মাত্রায় বিঘ্ন ঘটায়। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা (অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন), গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
এছাড়া ঘাড়ের বাড়তি মাপ ‘অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’ নামক একটি মারাত্মক শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার প্রধান লক্ষণ। এ সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি ঘুমের মধ্যে বারবার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন, যা হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম কারণ।
কতটুকু মাপ চিন্তার কারণ?
অধ্যাপকদের মতে, ঝুঁকি নির্ণয়ে মাপার ফিতাটি ঘাড়ের সবচেয়ে সরু অংশে আলতোভাবে জড়িয়ে মাপ নিতে হবে। ঝুঁকির সীমাগুলো হলো:
- পুরুষ: ১৭ ইঞ্চি (৪৩ সেমি) বা তার বেশি।
- নারী: ১৪ ইঞ্চি (৩৫.৫ সেমি) বা তার বেশি।
তবে ঘাড়ের মাপ বেশি হওয়া মানেই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সামগ্রিক সুস্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা সচরাচর এড়িয়ে যাওয়া হয়। ২০১৯ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ঘাড় মোটা, তাদের মধ্যে স্ট্রোক ও হৃদযন্ত্র বিকল হওয়ার হার অনেক বেশি।
প্রতিকারের উপায় কী?
যাদের ঘাড়ের পরিধি নির্ধারিত সীমার উপরে, তারা জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে ঝুঁকি কমাতে পারেন।
- কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়াম: দৌড়ানো, সাঁতার কাটা বা সাইকেল চালানোর মতো ব্যায়াম শরীরের উপরিভাগের চর্বি কমাতে সাহায্য করে।
- পর্যাপ্ত ঘুম: রাতে ভালো মানের ঘুম শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া সচল রাখে, যা হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে জরুরি।
- সুষম খাবার: প্রচুর ফলমূল, সবজি ও ডাল জাতীয় খাবার ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ করে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে।










