সংক্রমিত ব্যক্তি কাশি, হাঁচি বা শ্বাসের মাধ্যমে সহজেই অন্যদের মধ্যে এ রোগ ছড়িয়ে দিতে পারে। এটি যে কারো হতে পারে, তবে শিশুদের মধ্যে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

সাধারণত ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ১০-১৪ দিনের মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা দেয়। রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি, চোখ লাল ও পানি পড়া এবং গালের ভেতরে ছোট সাদা দাগ। পরবর্তী সময়ে উচ্চ জ্বরের সঙ্গে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা যায়, যা প্রথমে মুখ ও গলা থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এ ফুসকুড়ি সাধারণত পাঁচ-ছয়দিনের মধ্যে মিলিয়ে যায়।

হাম রোগের জটিলতা অনেক গুরুতর হতে পারে। এর মধ্যে অন্ধত্ব, মস্তিষ্কে সংক্রমণ (এনসেফালাইটিস), তীব্র ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা, কানের সংক্রমণ এবং নিউমোনিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, ৩০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি, অপুষ্ট শিশু এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এ রোগ আরো বিপজ্জনক, কারণ এতে মা ও শিশুর উভয়েরই ক্ষতি হতে পারে।

হাম বিশ্বের অন্যতম সংক্রামক রোগ হিসেবে পরিচিত। সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা, তার কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে নির্গত কণার সংস্পর্শে আসা কিংবা দূষিত পৃষ্ঠ স্পর্শ করার মাধ্যমে এ রোগ ছড়াতে পারে। ভাইরাসটি বাতাসে বা কোনো পৃষ্ঠে প্রায় ২ ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে এবং একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে প্রায় ১৮ জন পর্যন্ত সংক্রমিত হতে পারে।

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা গ্রহণ। ১৯৬৩ সালে টিকা চালুর আগে প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ এ রোগে মারা যেত। বর্তমানে টিকা দেয়ায় মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। তবুও ২০২৪ সালে প্রায় ৯৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই ছোট শিশু। তবে ২০০০-২০২৪ সালের মধ্যে টিকা দেয়ার মাধ্যমে প্রায় ৫৯ মিলিয়ন মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

হামের নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক চিকিৎসা নেই, তবে উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়া হয়। জ্বর কমানোর জন্য ওষুধ ব্যবহার করা হয়, পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম, তরল খাবার গ্রহণ এবং ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট দেয়া গুরুত্বপূর্ণ। গুরুতর ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে বিশেষ চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য কিন্তু বিপজ্জনক রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণ, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগের বিস্তার ও ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।