বয়স যত বাড়তে থাকে রোগের পরিমাণও বাড়তে থাকে৷। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানবশরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়। ফলে নানা রোগের বাসা বাঁধে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সব বয়সের সঙ্গে সঙ্গে খাবার ঠিক রাখা জরুরি। বিশেষ করে বৃদ্ধ বয়সে কী খাবার খাবেন, সেটা ঠিক রাখা প্রয়োজন। কারণ এ বয়সে হজমশক্তি ও খিদে কমে যায়। পুষ্টিবিদের মতে, প্রতিদিনের খাবারের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

বয়স্ক মানুষের খাবারদাবার

 বয়স হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শারীরিক পরিশ্রম কমে যায়। যার কারণে ক্ষুধা ও পানির চাহিদাও কমে যায়। কম ক্যালরি প্রয়োজন হলেও স্বাস্থ্যকর পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে বয়স্ক মানুষের। এজন্য ফলমূল, শাকসবজি, মাছ ও চর্বি ছাড়া মাংস খাওয়া বেশি দরকার। এ সময় ভাত, আলু ও মিষ্টিজাতীয় খাবার কম খেতে হবে।

 বাইরের খাবারের বদলে বাড়িতে তৈরি কম তেল-মসলাযুক্ত খাবার দেয়া উচিত। যদি দাঁতের সমস্যা থাকে বা চিবিয়ে খেতে না পারেন, তা হলে নরম ভাত, সেদ্ধ সবজি বা তরলজাতীয় খাবারই বেশি খেতে হবে।

 প্রোটিন গ্রহণ বাড়াতে হবে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশির ক্ষমতা ও শক্তি ক্ষয় হতে শুরু করে, যা সারকোপেনিয়া নামে পরিচিত। এটি প্রবীণদের দুর্বলতা, হাড়ভাঙা ও স্বাস্থ্যহীনতার বড় একটি কারণ। তাই খেতে হবে ডাল, ডিম, মটরশুঁটি, বাদাম, বীজ, মাশরুম, মুরগি, মাছ ও চর্বি ছাড়া মাংস।

 বয়স্কদের দিনে যেকোনো দুই রকম প্রাণিজ প্রোটিন দেয়া জরুরি। ডিম খেয়ে হজম না হলে ডিমের কেবল সাদা অংশটি খাওয়া যায়। হজমের জন্য এবং পুষ্টিগুণেও মাংসের থেকে মাছ খাওয়া ভালো।

 সব ধরনের ডাল ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেতে হবে। সবুজ শাকসবজি বেশি খেতে হবে।

 ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রোজের খাদ্যতালিকায় থাকা জরুরি। চিয়া বীজ, আখরোট, সয়াবিন ও মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা ৩ আছে।

 ফাইবারসমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে আপেল, কলা, স্ট্রবেরি, বিট, গাজর, ব্রকোলি পড়বে।

প্রতি ২-৩ ঘণ্টা পর খাবার খেতে হবে। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে খাবারের গন্ধ, স্বাদ ও অনুভূতি কমতে থাকে। ফলে খাবার কম আকর্ষণীয় মনে হতে পারে। এজন্য খাবারে বৈচিত্র্য রাখতে হবে এবং পছন্দ অনুসারে খাবার খেতে হবে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চা, কফি, সফট ড্রিংকস এড়িয়ে চলতে হবে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করতে হবে।