বাড়ছে গরম। সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য নানা রকম ঝুঁকি। গরমকালের সবচেয়ে বেশি আলোচিত দুটি নাম হিট স্ট্রেস ও হিট স্ট্রোক। হিট স্ট্রেস হলো তীব্র গরমে মানসিক ক্লান্তি বোধ করা। যদিও গরমে ক্লান্তি সবার আসে; কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এ ক্লান্তি মানসিক অবসাদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। হিট স্ট্রেসের পরিণতি হিসেবে কার্ডিওভাসকুলার সংক্রান্ত রোগ, বহুমূত্র, মানসিক উৎকণ্ঠা ও অ্যাজমা হতে পারে। দুর্ঘটনা কিংবা সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তো থাকেই। এমনকি হিট স্ট্রোকের মাধ্যমে ঘটতে পারে মৃত্যুও। বৈশ্বিকভাবেই হিট স্ট্রোকে মৃত্যুহার অনেক বেশি।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সারা দুনিয়ার মানুষই তাপমাত্রা বৃদ্ধিজনিত সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কয়েক দশক ধরে তীব্র আকার ধারণ করেছে সে সমস্যা। ৬৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের জন্য তাপমাত্রার কারণে মৃত্যুহার ২০০০-২০০৪ সাল থেকে ২০১৭-২০২১ সালের মধ্যে ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০০০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে গড়ে প্রতি বছর মৃত্যুবরণ করেছে ৪ লাখ ৮৯ হাজার মানুষ। তালিকায় কেবল এশীয় মৃত্যুর হারই ৪৫ শতাংশ এবং ইউরোপে মৃত্যুর হার ৩৬ শতাংশ। ইউরোপে ২০২২ সালের গ্রীষ্মকালে আনুমানিক ৬১ হাজার ৬৭২ জন মৃত্যুবরণ করেছে তাপমাত্রা-সংশ্লিষ্ট কারণে। অত্যধিক গরম ও তাপপ্রবাহের কারণে ২০০৩ সালের জুন-আগস্টে ৭০ হাজার মানুষ মারা যায় ইউরোপে। ২০১০ সালে রাশিয়ায় ৪৪ দিনব্যাপী স্থায়ী তাপপ্রবাহে মৃত্যু হয় ৫৬ হাজার মানুষের।

তাপপ্রবাহের কারণে শুধু হিট স্ট্রোক বা শারীরিক সংকট হয়, বিষয়টা এমন না। এর মধ্য দিয়ে বেড়ে যায় নানা ধরনের মানসিক সমস্যা। বিপর্যস্ত হয় সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। তবে সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো গরমের কারণে স্বাস্থ্যের নেতিবাচক প্রভাব জেনে আগে থেকেই সতর্ক হওয়া যায়। আর এর মধ্য দিয়ে বড় অংশই মোটামুটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। সরকারি ও বেসরকারিভাবে পদক্ষেপ নিয়ে জনমনে স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরি করা যেতে পারে। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএইচও) তাপপ্রবাহের বিপরীতে বিশেষ নির্দেশনা প্রকাশ করেছে সম্প্রতি, সেটা মেনে চলা যেতে পারে। জলবায়ু সমস্যার সমাধান করা একটা সম্মিলিত পদক্ষেপ। সবাই মিলে এগিয়ে এলেই কেবল বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এ ঝুঁকি থেকে মুক্ত করা যাবে।