‘সি’ স্টেজের অনুমোদনের পর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুর ১২টা ৩ মিনিটে পাওয়ার স্টার্ট-আপের মাধ্যমে চুল্লির (রিঅ্যাক্টর) ভেতরে চাপ ও তাপমাত্রা বাড়িয়ে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বি-স্টেজের কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) অনুমোদন নিয়ে আজ দুপুর ১২টা ৩ মিনিটে ‘সি’ স্টেজের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে রিঅ্যাক্টরের ভেতরে ধারাবাহিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এবং ধাপে ধাপে চাপ ও তাপমাত্রা বাড়ানো হচ্ছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গতকাল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) ‘স্টেজ-সি’ বা পাওয়ার স্টার্ট কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেয়। এর আগে ইউনিটটির প্রয়োজনীয় ফিজিকস টেস্ট ও বি-২ পর্যায়ের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এখন রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা শূন্য থেকে ধাপে ধাপে বাড়িয়ে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, কুল্যান্ট ব্যবস্থা, টারবাইন-জেনারেটর, বৈদ্যুতিক ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে।
এ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলো জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে জেনারেটরের সমন্বয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, রিঅ্যাক্টরের শক্তি প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছানোর পর পরীক্ষামূলকভাবে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হতে পারে। তবে এটি বাণিজ্যিক উৎপাদন নয়; গ্রিডে সংযোগের পরও বিভিন্ন কারিগরি ও নিরাপত্তা পরীক্ষা চলবে।
এর আগে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি লোডিং ও কমিশনিং কার্যক্রমে স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন নিরাপত্তা ভালভের কারিগরি জটিলতায় কিছুটা বিলম্ব হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও কারিগরি ব্যবস্থা শেষে বায়েরা পরবর্তী ধাপে যাওয়ার অনুমোদন দিয়েছে। চলতি অক্টোবরেই রিঅ্যাক্টরটি সর্বনিম্ন নিয়ন্ত্রণযোগ্য শক্তিস্তরে (এমসিপিএল) পৌঁছেছে।
এদিকে দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য বিশেষভাবে তৈরি পারমাণবিক জ্বালানি অ্যাসেম্বলির প্রথম চালান বাংলাদেশে এসেছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রসাটম। সাইবেরিয়ার নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেন্ট্রেটস প্ল্যান্টে প্রস্তুত করা এসব জ্বালানি বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে দেশে আনা হয়। প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানোর পর জ্বালানির কনটেইনারগুলো নির্ধারিত সুরক্ষিত সংরক্ষণাগারে রাখা হয়েছে।
রিঅ্যাক্টরে স্থাপনের আগে প্রতিটি ফুয়েল অ্যাসেম্বলির চাক্ষুষ ও কারিগরি পরীক্ষা করা হবে। বাংলাদেশী গ্রাহকপক্ষ, প্রকল্পের প্রধান ঠিকাদার এবং জ্বালানি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ কমিশন এসব পরীক্ষা করবে। পুরো প্রক্রিয়ায় পারমাণবিক ও বিকিরণ নিরাপত্তার নির্ধারিত বিধিবিধান অনুসরণ করা হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট ১৬৩টি ইউরোনিয়াম ফুয়েল অ্যাসেম্বলি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রথম ইউনিটের ভবিষ্যৎ রিফুয়েলিংয়ের জন্যও নতুন জ্বালানি দেশে আনা হচ্ছে। অক্টোবরে দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানির চালান রূপপুরে পৌঁছানোর তথ্য আগেই নিশ্চিত করেছিল প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।









