বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শারীরিক বিভিন্ন পরবির্তন ঘটে। সেই সঙ্গে মানসিক পরিবর্তন ঘটে। বয়স্কদের শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নজর দেয়া হলেও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকটা অনেকটাই উপেক্ষা করা হয়। বয়স্ক ব্যক্তির মানসিক সমস্যাগুলো সঠিক সময়ে চিহ্নিত করা জরুরি। তা না হলে ব্যক্তির জীবনযাত্রার মানকে তা প্রভাবিত করতে পারে। বয়স্ক ব্যক্তিদের যে ধরনের মানসিক সমস্যা দেখা দেয় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—

স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। তবে স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ায় যদি দৈনন্দিন কাজ বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে তা অন্য রোগের লক্ষণ হতে পারে।

সিজোফ্রেনিয়া: সিজোফ্রেনিয়া একটি জটিল ধরনের মানসিক রোগ (সাইকোটিক ডিজঅর্ডার)। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির চিন্তা, আবেগ-অনুভূতি, সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা ও ব্যক্তিসম্পর্ক মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। যদিও সিজোফ্রেনিয়া সাধারণত যুবকদের মধ্যে দেখা যায়। তবে বয়স্কদের মধ্যেও এটি হতে পারে।

ডিপ্রেশন: মন খারাপ, আনন্দহীনতা, ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা, খাবারের রুচি হারানো, আত্মহত্যার চিন্তা ইত্যাদি ডিপ্রেশনের সাধারণ লক্ষণ।

উদ্বেগ: অতিরিক্ত চিন্তা, ভয়, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড়, ঘামা, ঘুমের সমস্যা ইত্যাদি উদ্বেগের লক্ষণ।

কারণ

বয়স্কদের মধ্যে মানসিক সমস্যার অনেক কারণ থাকতে পারে। যেমন দীর্ঘমেয়াদি কোনো রোগে আক্রান্ত থাকলে। যেমন ডায়াবেটিস, হৃদরোগ। আবার ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। বয়স্ক ব্যক্তিরা অনেক সময় একা একা থাকলে তাদের মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। বয়স্করা যখন পরিবার, বন্ধুবান্ধব থেকে দূরে থাকেন, তখন একাকিত্ব অনুভব করেন।

সমাধান

বয়স্কদের মানসিক সমস্যা সমাধানে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও চিকিৎসা গ্রহণ করা যেতে পারে। কিছুক্ষেত্রে মানসিক রোগের চিকিৎসায় ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে। কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি (সিবিটি) এবং অন্যান্য ধরনের থেরাপি বয়স্কদের মানসিক সমস্যা মোকাবেলায় সাহায্য করতে পারে। পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও সামাজিক গোষ্ঠীর সমর্থন বয়স্কদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে। সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুম বয়স্কদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সাহায্য করে। বয়স্কদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং তাদের সমর্থন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।