চলতি বছরের শুরু থেকে বিশ্বব্যাপী চিকুনগুনিয়া ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার মানুষ। ১৬টি দেশে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে ৯০-এ। এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, ল্যাটিন আমেরিকা ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে মশাবাহিত এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত থাকায় মার্কিন স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো ভ্রমণকারীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।

চীনের পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। জুনের শেষ দিক থেকে দেশটির গুয়াংডং প্রদেশে অন্তত ৭ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। ২০০৮ সালে ভাইরাসটি চীনে শনাক্ত হওয়ার পর এটাই সর্ববৃহৎ প্রাদুর্ভাব।

চিকুনগুনিয়া একটি ভাইরাল রোগ, যা এডিস এজিপ্টি প্রজাতির সংক্রমিত মশার কামড়ে ছড়ায়। এই একই মশা ডেঙ্গু, ইয়েলো ফিভার ও জিকা ভাইরাসের বাহক হিসেবেও পরিচিত।

সাধারণত এ ভাইরাসে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগী এক সপ্তাহের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠেন, তবে অনেকের ক্ষেত্রে গিঁটের ব্যথা দীর্ঘমেয়াদে—মাসের পর মাস এমনকি বছরের পর বছর থেকে যেতে পারে। ভাইরাসটির কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, যদিও মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে কম। তবে নবজাতক, বৃদ্ধ ও হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসসহ অন্য জটিল রোগে আক্রান্তদের জন্য ভাইরাসটি মারাত্মক হতে পারে।

সংক্রমণের প্রক্রিয়াটি বেশ সরল, একটি সংক্রমিত মশা যখন কোনো সুস্থ মানুষকে কামড়ায়, তখন তার শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করে। আর সংক্রমিত ব্যক্তিকে কামড়ালে সুস্থ মশাও ভাইরাস বহনকারী হয়ে ওঠে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শুরু থেকেই ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দ্বীপগুলো— লা রেউনিয়ন, মায়োত্তে ও মরিশাসে বড় আকারে চিকুনগুনিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। আফ্রিকার মাদাগাস্কার, সোমালিয়া ও কেনিয়া ছাড়াও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অংশে ব্যাপক সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। সংক্রমণ বাড়ছে ইউরোপেও। এদিকে আমেরিকায় চিকুনগুনিয়ার সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা ও আর্দ্রতার কারণে মশাদের ব্যাপক বংশবিস্তারের কারণে ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুসারে, চীনা কর্তৃপক্ষ চিকুনগুনিয়া রোধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ও আশেপাশে জমে থাকা পানির উৎস— যেমন ফুলের টব, কফি মেশিন, খালি বোতল ইত্যাদি—পরিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ না মানলে জরিমানা হতে পারে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ইউয়ান।

চিকিৎসা না থাকায় চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করা। যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি জানিয়েছে, চিকুনগুনিয়ার চিকিৎসা মূলত বিশ্রাম, প্রচুর পানি পান ও ব্যথানাশক গ্রহণ। তবে অ্যান্টিাবায়োটিক ওষুধ এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে, কারণ অনেক ক্ষেত্রে এসব ওষুধ রক্তক্ষরণ বাড়াতে পারে।

আল জাজিরা অবলম্বনে