অ্যালার্জি খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। ধারণা করা হয়, যুক্তরাজ্যে প্রতি চারজনের মধ্যে একজন জীবনের কোনো না কোনো সময় অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হয়।
এটি বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে শিশু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যালার্জি কমে যায়, তবে কিছু অ্যালার্জি সারাজীবন ধরে থাকতে পারে। আবার অনেক সময় প্রাপ্তবয়স্করাও এমন কিছুর প্রতি অ্যালার্জিক হতে পারেন, যার প্রতি আগে তাদের কোনো সমস্যা ছিল না।
অ্যালার্জি সাধারণত খুব গুরুতর না হলেও এটি দৈনন্দিন জীবনে অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হালকা হয় এবং নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যদিও তা তুলনামূলকভাবে বিরল।
অ্যালার্জির লক্ষণ
অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া সাধারণত খুব দ্রুত ঘটে, প্রায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—
- হাঁচি
- নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া
- চোখ লাল হওয়া, চুলকানি ও পানি পড়া
- শ্বাস নিতে কষ্ট, কাশি বা শোঁ শোঁ শব্দ হওয়া
- ত্বকে লালচে ও চুলকানিযুক্ত ফুসকুড়ি
- হাঁপানি বা একজিমার লক্ষণ বেড়ে যাওয়া
বেশির ভাগ অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া হালকা হলেও কখনো কখনো ‘অ্যানাফাইল্যাক্সিস’ বা ‘অ্যানাফাইল্যাক্টিক শক’ নামক গুরুতর অবস্থা দেখা দিতে পারে। এটি একটি জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি এবং দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে আপনি ফার্মেসি থেকেই প্রাথমিক পরামর্শ ও চিকিৎসা নিতে পারেন। ফার্মাসিস্ট যদি মনে করেন আপনার অ্যালার্জি হালকা, তবে তিনি তা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারেন।
যদি আপনি বা আপনার শিশুর কোনো কিছুর প্রতি অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হয়েছে বলে মনে করেন, তবে ফার্মাসিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। কারণ অনেক সময় একই ধরনের লক্ষণ অন্য রোগের কারণেও হতে পারে।
যদি অ্যালার্জি গুরুতর হয় বা ঠিক কোন কারণে হচ্ছে তা বোঝা না যায়, তাহলে চিকিৎসক দেখানোর পরামর্শ দেয়া হয়। প্রয়োজনে তিনি আপনাকে অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠাতে পারেন, যেখানে পরীক্ষা করে সঠিক কারণ নির্ণয় ও চিকিৎসা দেয়া হবে।
অ্যালার্জির কারণ
অ্যালার্জি তখনই ঘটে, যখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (ইমিউন সিস্টেম) কোনো নির্দিষ্ট পদার্থকে ক্ষতিকর হিসেবে ভুলভাবে শনাক্ত করে এবং তার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখায়।
এটি কেন ঘটে তা সম্পূর্ণভাবে জানা যায়নি। তবে যাদের পরিবারে অ্যালার্জির ইতিহাস আছে বা যারা হাঁপানি বা একজিমার মতো সমস্যায় ভোগেন, তাদের মধ্যে অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
প্রতি বছর অ্যালার্জিতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এর একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধারণা করা হয়, আমরা এখন অনেক বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত পরিবেশে বসবাস করছি। এর ফলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কম জীবাণুর মুখোমুখি হয় এবং নিরীহ পদার্থের প্রতিও অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে। এ কারণেই অ্যালার্জি বর্তমানে একটি ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসমস্যা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।










