এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ইংল্যান্ডে প্রতি ১০ জনে একজন মনে করেন তাদের দীর্ঘস্থায়ী কভিড আছে। সম্প্রতি সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এ তথ্য জানিয়েছেন। দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা জানান, ৪ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি কভিডে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। খবর বিবিসি
জেনারেল প্র্যাক্টিশনাল (জিপি) পেশেন্ট সার্ভে থেকে সংগৃহীত ৭ লাখ ৫০ হাজারটিরও বেশি প্রতিক্রিয়ার বিশ্লেষণ দেখা যায় যে, ৯ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ মনে করেন তারা দীর্ঘমেয়াদি কভিডে আক্রান্ত হতে পারেন।
দীর্ঘমেয়াদি কভিডের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, মস্তিষ্কের বিভ্রান্তি (ব্রেইন ফগ) এবং হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিকতা।গবেষণাটিতে আরো প্রকাশ করা হয়েছে যে,তুলনামূলক অবহেলিত এলাকা ও নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী কভিডের হার বেশি। পাশাপাশি পিতা-মাতা, পরিচর্যাকারী এবং যাদের অন্য কোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগ রয়েছে, তাদেরও বেশি আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গবেষণার সহলেখক অধ্যাপক নাসরিন আলওয়ান বলেন, ‘ইতোমধ্যে যারা সমাজে পিছিয়ে পড়া সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী রয়েছে, তারা এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ফলে এ বিশ্লেষণটি দীর্ঘস্থায়ী কভিডের কারণে সামাজিক বৈষম্যকে তুলে ধরেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘অনেকে হয়ত জানেনই না যে তারা দীর্ঘমেয়াদী কভিডে আক্রান্ত। এতে করে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যায় পরিণত হচ্ছে যা ব্যক্তি পর্যায়, পরিবার, অর্থনীতি এবং সমাজের ওপর প্রভাব ফেলছে। তাই তাদের যে উপযুক্ত চিকিৎসা, রোগ নির্ণয় ও সহায়তার প্রয়োজন তাই এ গবেষণায় দেখা যাচ্ছে।’
গবেষকরা আরো জানান, ২৫ বছরের কম বয়সী, পুরুষ, জাতিগত সংখ্যালঘু বা যাদের দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমস্যা নেই তাদের দীর্ঘস্থায়ী কভিড আছে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চিত হওয়ার হার বেশি।
এ ছাড়াও, যারা মনে করেন তারা এই রোগে আক্রান্ত, তাদের মধ্যে পুরুষরা সাধারণত নারীদের তুলনায় চিকিৎসার পরামর্শ নিতে কম আগ্রহী। এ গবেষণাটি পরিচালনাকারী সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষণার্থী মিরেম্বে উডরো বলেন, ‘আমরা সত্যিই অবাক হয়েছি যে এত মানুষ নিশ্চিত নন তারা দীর্ঘস্থায়ী কভিডে আক্রান্ত কি না এবং এ গবেষণাটি দেখায় যে এই অবস্থাটি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও সহায়তায় পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দূর করা এখনও প্রয়োজন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চাই না দীর্ঘস্থায়ী কভিড যেন যুক্তরাজ্যে স্বাস্থ্যগত সমস্যা বৃদ্ধির একটি কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’









