লিঙ্গভিত্তিক পার্থক্য: ফুসফুস ক্যান্সারের লক্ষণগুলো সাধারণত পুরুষ ও নারীদের মধ্যে একই রকম, তবে সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নারীরা ঘনঘন কাশি এবং বুকে ব্যথা অনুভব করেন, অন্যদিকে পুরুষদের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে স্বরভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা বেশি।
হরমোনের প্রভাব: পুরুষ ও নারীদের মধ্যে হরমোনের পার্থক্যের কারণে লক্ষণগুলোর মধ্যে তারতম্য দেখা দেয়। নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এমন ইস্ট্রোজেন হরমোন ফুসফুস ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষক হিসেবে কাজ করে। যার কারণে নারী ও পুরুষের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশে তারতম্য সৃষ্টি করে।
সামাজিক-সাংস্কৃতিক কারণ: পুরুষদের মধ্যে স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ কম কাজ করে। ফলে কোনো রোগ হলে তাদের মধ্যে দেরিতে ডায়াগনোসিস হয়।
ধূমপান: ধূমপানকারী পুরুষ ও নারী উভয়েরই ফুসফুসের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ধূমপান করে না, এমন ব্যক্তির মধ্যে ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা: ফুসফুস ক্যান্সারের রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার পদ্ধতি পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই একই রকম। লিঙ্গ নির্বিশেষে ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকির পরিমাণ কমাতে প্রাথমিক শনাক্তকরণ অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি এমন কারণগুলো হলো—
ধূমপান: ফুসফুস ক্যান্সারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ ধূমপান। সক্রিয় ও পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসা উভয়ই ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়।
বয়স: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের মধ্যে রোগটি ধরা পড়ে।
পারিবারিক ইতিহাস: পারিবারিকভাবে ফুসফুস ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে তাও একজন ব্যক্তির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। যদি কোনো নিকটাত্মীয়ের ফুসফুস ক্যান্সার হয়ে থাকে, তাহলে সম্ভাব্য লক্ষণগুলো সম্পর্কে সতর্ক থাকা অপরিহার্য।
রেডিয়েশন থেরাপি: যারা আগে বুকে বা স্তনে রেডিয়েশন থেরাপি নিয়েছেন তাদের ফুসফুসের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
অন্যান্য ফুসফুসের রোগ: দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ যেমন ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) ও পালমোনারি ফাইব্রোসিস ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
পরিবেশগত কার্সিনোজেন: বায়ুদূষণ ও শিল্প রাসায়নিকের মতো পরিবেশগত কার্সিনোজেনের সংস্পর্শে ফুসফুস ক্যান্সারের বিকাশে অবদান রাখতে পারে।










