মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার হঠাৎ করে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএলএস) কমিশনার এরিকা ম্যাকএনটারফারকে বরখাস্ত করেছেন। এই পদক্ষেপটি আসে , যখন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ পায় যে চলতি গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে কম হারে বেড়েছে- এমন পরিসংখ্যান প্রকাশের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই বরখাস্তের খবরটি এসেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, পদক্ষেপটি ছিল 'বার্তা পৌঁছে দেয়ার অপরাধে শাস্তি'। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ম্যাকএনটারফার চাকরির 'ভুয়া' পরিসংখ্যান তৈরি করেছিলেন গত নির্বাচনের আগে। কমলা হ্যারিসের জয় নিশ্চিত করতেই ম্যাকএনটারফার এমনটা করেছিলেন বলে ট্রাম্পের অভিযোগ। তবে তিনি এই অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি।

ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, 'আজকের চাকরির সংখ্যা ছিল সাজানো, যেন রিপাবলিকানদের এবং আমাকে খারাপ দেখানো যায়।' তিনি আরো দাবি করেন, 'আমার সময়ে অর্থনীতি এখনো বাড়ছে। আমরা নির্ভুল পরিসংখ্যান চাই।'

তবে, পরিসংখ্যানে উল্টো চিত্রই দেখা যাচ্ছে। জুলাইয়ে চাকরির সংখ্যা যেমন আশানুরূপ ছিল না, তেমনি মে ও জুনের পুরনো হিসেবও বেশ কমিয়ে নতুন করে দেখানো হয়েছে।

এরিকা ম্যাকএনটারফারকে অপসারণের ঘটনাটি অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। প্রগতিশীল থিঙ্কট্যাঙ্ক সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ গ্রোথ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক লিলি রবার্টস বলেন, 'ট্রাম্পের কাছে পরিসংখ্যানটি পছন্দ হয়নি বলে সত্যবাদীকে বরখাস্ত করা হলো। অর্থনীতির নির্ভুল তথ্য সংগ্রহকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারে ঝুঁকি তৈরি হলো। এর প্রভাব বহু বছর ধরে মার্কিন জনগণের ওপর থাকবে।'

ফেডারেল পরিসংখ্যান বিষয়ক পেশাজীবীদের কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পল শ্রোয়েডার বলেন, 'ট্রাম্পের এই অভিযোগ অত্যন্ত ক্ষতিকর ও অযৌক্তিক। এটি ফেডারেল অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে। এটি একটি গুরুতর ভুল, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব থাকবে।'

এরিকা ম্যাকএনটারফার একজন অভিজ্ঞ ও সমাদৃত অর্থনীতিবিদ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফেডারেল সরকারে কাজ করেছেন। জর্জ ডব্লিউ বুশ, বারাক ওবামা, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেন প্রশাসনে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর মান বাড়ানো ও নিরপেক্ষ তথ্য সরবরাহে নিরলস কাজ করেছে তিনি।

বিএলএস এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, ম্যাকএনটারফারকে অপসারণ করা হয়েছে এবং ডেপুটি কমিশনার উইলিয়াম উইয়াট্রস্কি আপাতত ভারপ্রাপ্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।