তাইওয়ানের সাবেক প্রেসিডেন্টের এক সহকারীসহ চারজনকে চীনের জন্য গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছেন দেশটির একটি আদালত। আসামিরা দেশটির ডেমোক্র্যাটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির (ডিপিপি) রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। খবর বিবিসি।
আদালত তাদের প্রত্যেককে রাষ্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁস করার অপরাধে চার থেকে দশ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। সবচেয়ে দীর্ঘ সাজা পেয়েছেন হুয়াং চু-জুং, যিনি আগে তাইপে কাউন্সিলরের সহকারী ছিলেন। তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। প্রসিকিউটররা তার সর্বোচ্চ ১৮ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিলেন।
আদালত থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হুয়াং তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসেফ উ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য পররাষ্ট্র দফতরের একজন কর্মচারীকে নির্দেশ দেন। এরপর হুয়াং সেই তথ্য ব্যবহার করে রিপোর্ট তৈরি করে এনক্রিপ্টেড সফটওয়্যারের মাধ্যমে চীনের গোয়েন্দা সংস্থায় পাঠিয়েছিলেন।
পররাষ্ট্র দফতরের কর্মচারী হো জেন-চিয়ে ৮ বছর ২ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। হুয়াংয়ের সঙ্গে আরো একজন সাবেক ডিপিপি কর্মী চিয়ু শি-ইয়ুয়ান কাজ করেছিলেন, যিনি প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তেয়ের ভ্রমণের সূচি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। উ শাংইউ প্রেসিডেন্ট লাইয়ের বিভিন্ন সফরের বিস্তারিত তথ্য হুয়াং ও চিউকে জানাতেন।
আদালত জানিয়েছে, হুয়াং চীনা সরকারের কাছ থেকে প্রায় ৫ মিলিয়ন বা ৫০ লাখ নিউ তাইওয়ান ডলার (প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার ডলার) গ্রহণ করেছিলেন। চিয়ু পেয়েছিলেন দুই মিলিয়ন বা ২০ লাখ ডলারেরও বেশি। আদালত উল্লেখ করেছে, তাদের তথ্য ফাঁসের ঘটনা দেশের কূটনৈতিক পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।
এ মামলাকে তাইওয়ানের চীনা গুপ্তচরদের বিরুদ্ধে অভিযান বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালে তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যুরো চীনের জন্য গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ৬৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েকজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, এমনকি এক সাবেক বিমানবাহিনী কর্নেলও চীনের জন্য গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে সাজা পেয়েছেন। ২০২৩ সালে ওই কর্নেলকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
তাইওয়ান-চীন সম্পর্ক এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। প্রেসিডেন্ট লাইয়ের ডিপিপি দল চীনবিরোধী এবং স্বাধীনতাবাদী অবস্থানের জন্য পরিচিত। অন্যদিকে, কুয়োমিনতাং (কেএমটি) দল চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পক্ষে।










