ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক আটক সুমুদ ফ্লোটিলার কয়েকজন আন্তর্জাতিক অ্যাক্টিভিস্ট অভিযোগ করেছেন, জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ দুর্ব্যবহার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তুর্কি সাংবাদিক এবং গাজা সুমুদ ফ্লোটিলায় অংশগ্রহণকারী এরসিন চেলিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি ইসরায়েলি বাহিনীর দ্বারা গ্রেটা থুনবার্গকে ‘নির্যাতন’ করার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, কীভাবে গ্রেটাকে মাটিতে টেনে নিয়ে গিয়ে ইসরায়েলি পতাকা চুম্বনে বাধ্য করা হয়েছিল। খবর আল জাজিরা।
স্থানীয় সময় শনিবার ফ্লোটিলার ১৪৭ জন অ্যাকটিভিস্ট ইস্তাম্বুলে অবতরণ করেছেন। এর মধ্যে ৩৬ জন তুর্কি নাগরিকসহ যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, মালয়েশিয়া, কুয়েত, সুইজারল্যান্ড, তিউনিসিয়া, লিবিয়া, জর্ডান এবং অন্যান্য দেশের অ্যাক্টিভিস্টরা ছিলেন বলে তুর্কি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
মালয়েশিয়ার অ্যাক্টিভিস্ট হাজনানি হেলমি এবং আমেরিকান অংশগ্রহণকারী উইন্ডফিল্ড বিভার ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে একই ধরনের বর্ণনা দিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, থুনবার্গকে ধাক্কা দিয়ে ইসরায়েলি পতাকা নিয়ে প্যারেড করানো হয়েছে।
হেলমি বলেন, ‘এটা এক বিপর্যয়কর পরিস্থিতি। তারা আমাদের সঙ্গে পশুর মতো ব্যবহার করেছে।‘ তিনি জানান, আটককৃতদের খাবার, নিরাপদ পানি এবং ঔষধ দেয়া হয়নি।
বিভার বলেন, থুনবার্গের সঙ্গে ভয়ানক আচরণ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির রুমে প্রবেশ করার সময় থুনবার্গকে ধাক্কা দিয়ে সেখানে ঢোকানো হয়।
ফ্লোটিলায় থাকা ইতালীয় সাংবাদিক লরেঞ্জো অগোস্টিনোও থুনবার্গের প্রতি এমন আচরণের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি আনাদোলুকে বলেন, ‘গ্রেটা থুনবার্গ মাত্র ২২ বছরের এক সাহসী নারী। তাকে অপমান করা হয়েছে। ইসরায়েলি পতাকায় জড়িয়ে ট্রফির মতো প্রদর্শন করা হয়েছে।‘
অন্যান্য অ্যাক্টিভিস্টরাও গুরুতর দুর্ব্যবহারের বর্ণনা দিয়েছেন। তুর্কি টিভি উপস্থাপিকা ইকবাল গুরপিনার বলেন, ‘তারা আমাদের সঙ্গে কুকুরের মতো ব্যবহার করেছে। তিন দিন না খাইয়ে রেখেছিল। তারা আমাদের পানি দেয়নি। টয়লেট থেকে পানি পান করতে হয়েছিল।‘ তিনি বলেন, এই অভিজ্ঞতার ফলে তার গাজা সম্পর্কে আরো ভালো ধারণা হয়েছে।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি জানান, ২৬ জন ইতালীয়কে ইসরায়েল সেখান থেকে বের করে দিয়েছে। আরো ১৫ জন ইসরায়েলি হেফাজতে বহিষ্কারের অপেক্ষায় আছেন।
ইসরায়েলি অধিকার গোষ্ঠী আদালাহ জানিয়েছে, আটককৃতরা অভিযোগ করেছেন যে— তাদের হাত বেঁধে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করা হয়েছিল, ঔষধ দেয়া হয়নি এবং আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতেও বাধা দেয়া হয়েছিল।
তবে, ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ অভিযোগগুলোকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। জোর দিয়ে বলেছে যে, সকল আটককৃতদের সঙ্গে আইন অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়েছে।















