মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালের শেষ ক্যাবিনেট সভা মঙ্গলবার কিছুটা ঝিমুনি, কিছুটা কৌতুক আর অনেকটা দীর্ঘসূত্রতার মধ্য দিয়ে শেষ হলো। দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা বৈঠকে প্রেসিডেন্টের চোখ বারবার বন্ধ হতে দেখা যায়—যা ক্যামেরায় ধরা পড়ে মুহূর্তেই। খবর এপি।
সভা শুরুর পর ট্রাম্প জানান, এটি ২০২৬ সালের আগে শেষ ক্যাবিনেট বৈঠক। তারপর দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি পুরোনো নীতি ঘোষণা, অভিযোগ এবং ২০২০ সালের নির্বাচনী দাবিগুলোর পুনরাবৃত্তি করেন। এরপর মন্ত্রীরা কথা বলতে শুরু করলে ‘দ্রুত এগোনোর’ ট্রাম্পের নির্দেশ তেমন কাজে লাগল না।
৭৯ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন মন্ত্রিসভার সদস্যদের একের পর এক দীর্ঘ বক্তব্য শুনছিলেন, তখন বারবার তাকে চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বুজতে দেখা যায়। সম্প্রতি তার শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে 'নিউ ইয়র্ক টাইমস'-এ প্রকাশিত রিপোর্টের সমালোচনা করে তিনি বৈঠকের শুরুতেই নিজেকে ‘শার্প’ বলে দাবি করলেও, তার ঝিমুনি ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ যখন তার দফতরের নাম 'ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’ করার প্রস্তাবের প্রশংসা করছিলেন, ঠিক তখনই সবার নজর কাড়ে তার সামনে রাখা নেমপ্লেটটি। সেখানে তার পদবি লেখা ছিল ‘সেক্রেটারি অব ওয়ার’ (ssecretary of war), অর্থাৎ শব্দটিতে একটি অতিরিক্ত 'এস' (s) জুড়ে যাওয়ায় অনলাইনে শুরু হয় হাস্যরস।

বাজেট ডিরেক্টর রাসেল ভাউট হোয়াইট হাউজের প্যাডে আঁকিবুঁকি করছেন। ছবি- এপি
বৈঠকটির নিস্তেজ ভাব দূর করতে বাজেট ডিরেক্টর রাসেল ভাউটকে দেখা যায় হোয়াইট হাউসের প্যাডে পাহাড়, পাইন গাছ এবং অনেকটা পাবলিক টেলিভিশনের চিত্রশিল্পী বব রসের আঁকা 'ফ্লাফি ক্লাউড'-এর মতো মেঘের ছবি আঁকতে।
বৈঠকের শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বে আসে কয়েকটি বড় খবর। ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন, তিনি সোমালি অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে দেখতে চান না। তিনি অভিযোগ করেন, সোমালীয়রা মার্কিন সাহায্য প্রকল্পের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল এবং দেশের জন্য 'কোনো অবদানই রাখে না'।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরুতে সদস্যদের ‘তাড়াতাড়ি চলুন’ বলে অনুরোধ করলেও বেশিরভাগ সদস্যই দীর্ঘ বক্তৃতা দিয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সবার শেষে বক্তব্য শুরু করে মজা করে বলেন, ‘আমি জানি আমিই শেষ, তাই তাড়াতাড়ি করতে চেয়েছিলাম। তবে অনেক কিছু বলার আছে।‘
মোট দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠক, ট্রাম্পের রেকর্ড করা তিন ঘণ্টা সতেরো মিনিটের বৈঠকের চেয়ে কম হলেও, প্রেসিডেন্টের বিরক্তি লুকানো যায়নি।
টেবিলে দু’বার হাত চাপড়ে বৈঠক শেষ ঘোষণা করে ট্রাম্প হেগসেথের পিঠ চাপড়ে দেন আর শেষ হয় ধীর গতির এ ‘ম্যারাথন’।















