মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে আজ ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় এ ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তাদের আলোচনায় টিকটক, বোয়িং বিমান কেনা, দুষ্প্রাপ্য খনিজ ও তাইওয়ান ইস্যু গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আপনারা জানেন, শুক্রবার আমি প্রেসিডেন্ট শি'র সঙ্গে কথা বলছি। টিকটক ও বাণিজ্য নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা হবে। আমরা সবগুলো বিষয়ে চুক্তিতে পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি এবং চীনের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই ভালো। তবে এ বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কিছু বলেনি চীন।
দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এটি ট্রাম্পের তৃতীয় ফোনালাপ হতে চলেছে। আর চলতি বছরের শুরু থেকে এটি দ্বিতীয়। এর আগে গত জুনে দুই পরাশক্তি দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে কথা হয়েছিল। সে সময় দুজনই একে-অপরকে নিজ নিজ দেশে সফরে আমন্ত্রণ জানান। তবে এ নিয়ে তাদের কেউই পরবর্তীতে কোনো পরিকল্পনা করেননি।
আন্তর্জাতিক সংকট গবেষণা সংস্থার মার্কিন-চীন সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ আলি ওয়াইনের মতে, দুই নেতাই এটা দেখানোর চেষ্টা করবেন যে, তারা আলোচনায় প্রতিপক্ষকে কৌশলে পরাস্ত করেছেন। বিশেষ করে শুল্ক আলোচনায় এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ দুই নেতার আলোচনার মধ্যে টিকটক নিয়ে চলমান নাটকীয়তার নিষ্পত্তি হতে পারে।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তিনি আশা করছেন, টিকটকের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারবেন। তিনি আরো বলেন, চুক্তি অনুযায়ী টিকটকের মার্কিন কার্যক্রম হবে 'পুরোটাই আমেরিকান বিনিয়োগকারীদের মালিকানাধীন'। এর মালিক হবে খুবই ধনী ব্যক্তি ও কোম্পানিরা।
ট্রাম্প মনে করেন, টিকটক তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা বাড়াতে সাহায্য করেছে এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে তার জয়ে ভূমিকা রেখেছে।
এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার গত সোমবার মাদ্রিদে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত সপ্তাহে চীনা মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
২০২৪ সালে ক্ষমতা নেয়ার পর চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ‘স্থিতিশীল’ রাখার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে দেশটির ওপর চাপও বাড়াচ্ছেন। সে ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের শুরুতে কয়েক মাস ধরে চলা বিরোধের সময় দুই পক্ষই একে অপরের পণ্যের ওপর নাটকীয়ভাবে শুল্ক বাড়িয়ে দেয়। এতে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলা ব্যাহত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, আজকের আলোচনায় দুষ্প্রাপ্য খনিজের প্রবাহ নিশ্চিত করা, ফেন্টানিল পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া, শুল্ক কমানো ও মার্কিন কৃষিপণ্যের অর্ডার বাড়ানো—এসব বিষয় যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার এজেন্ডায় রয়েছে। তাদের মতে, বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যকার সম্পর্কের এ অস্থিতিশীলতা সমাধানের সহজ উপায় হতে পারে চীনের পক্ষ থেকে শত শত বোয়িং বিমান কেনার ঘোষণা বা মার্কিন কৃষিপণ্যে অর্ডার বাড়ানো। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চীনা শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে।
তবে তাইওয়ান ইস্যু দুদেশের সম্পর্কের সবচেয়ে জটিল বিষয়। চীন তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ড দাবি করে আসছে এবং মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করছে। এ নিয়ে দুই দেশের উত্তেজনা বিদ্যমান। তাই দক্ষিণ চীন সাগরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের নিরাপত্তা প্রত্যাশাও আলোচনায় আসতে পারে।















