দক্ষিণ এশিয়ার দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা যেন কমছেই না। এরই মধ্যে দুই দেশের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে উত্তেজনে প্রশমনে দুই দেশকেই আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ভারত-পাকিস্তান এ সংঘাতকে ‘চিন্তার বিষয়’ মনে করছে না দেশটি। খবর রয়টার্সের।
মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব এর অবসান হোক। তবে আমরা এই দুই দেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।
তিনি বলেন, আমরা সর্বোচ্চ তাদের মধ্যকার এ উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করতে পারি। তবে আমরা তাদের যুদ্ধের মধ্যে জড়াব না। এটা আমাদের চিন্তার বিষয় না এবং আমাদের নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
আন্তর্জাতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়ানো উচিত নয়—এমন অবস্থান আগেই জানিয়েছিলেন ভ্যান্স। তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমরা সরাসরি কোনো ভূমিকা নিচ্ছি না। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।
ভারত ওয়াশিংটনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, যা চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব প্রতিরোধের একটি হাতিয়ার। অন্যদিকে পাকিস্তান এখনও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে রয়ে গেছে, যদিও ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে ওয়াশিংটনের প্রত্যাহারের পর তাদের গুরুত্ব অনেকটাই কমে গেছে।
এদিকে গতকাল ভারতের জম্মু, পাঞ্জাব ও রাজস্থানে পাকিস্তান একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ভারত। জবাবে পাকিস্তানের লাহোরে হামলা চালানোর দাবি করেছে নয়াদিল্লি। তবে ভারতে মিসাইল ও ড্রোন হামলার খবরকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। এমনকি গতকাল রাতে লাহোরে নতুন করে কোনো হামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।
ভারতের সামরিক সূত্রের বরাতে আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের তিনটি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। ভারতীয় সামরিক সূত্র জানায়, জম্মু ও কাশ্মীর, রাজস্থানের জয়সালমির ও পাঞ্জাবের পাঠানকোটে এ হামলা চালায় পাকিস্তান। ভারতীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সবগুলো হামলা মাঝ আকাশেই ভূপাতিত করেছে। একই সঙ্গে ভারত তিনটি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি জানিয়েছে। এক পাকিস্তানি পাইলটকে আটকের খবরও এসেছে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে।
তবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ভারতের হামলার যে খবর গণমাধ্যমে এসেছে তা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। একই সঙ্গে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার খবরকেও মিথ্যা বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ। দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ভারতের পক্ষ থেকে এফ-১৬ এবং জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ হাস্যকর ও মিথ্যা। এ ধরনের বানোয়াট গল্প বাস্তবে কোনো ফল বয়ে আনবে না। এসব ভিত্তিহীন দাবি শুধু ভারতের হতাশাই প্রকাশ করে। আমরা এ দাবি জোরালোভাবে অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করছি।















