ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইসরায়েলের কাছে ১৫ কোটি ১৮ লাখ ডলারের অস্ত্র ও গোলাবারুদ বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই বিশাল অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে দেশটির কংগ্রেসের কোনো ধরনের পর্যালোচনার প্রয়োজন মনে করেনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই বিক্রয়কে ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সরাসরি চুক্তির পথ প্রশস্ত করেছেন। খবর এপি।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর মাত্র এক সপ্তাহ পরেই এই বিশেষ পদক্ষেপের ঘোষণা এলো। পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় ইসরায়েল ১২ হাজার ইউনিট ‘বিএলইউ-১১০এ/বি’ মডেলের ১০০০ পাউন্ড ওজনের শক্তিশালী বোমা পাবে। এই অস্ত্রের প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে টেক্সাস-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘রেপকন ইউএসএ’।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিক্স। তিনি অভিযোগ করেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধের জন্য প্রশাসন আগে থেকে মোটেও প্রস্তুত ছিল না। মিক্স এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন বারবার দাবি করে এসেছে যে তারা এই যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। অথচ এখন কংগ্রেসকে পাশ কাটাতে জরুরি ক্ষমতার দোহাই দেয়ার মানে হলো, পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এই সংকট আসলে ট্রাম্প প্রশাসনেরই তৈরি।‘
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও তার আশপাশের অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলা চলছে। ইরানও এর পাল্টা জবাব দিচ্ছে। ইরানের জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূতের দেওয়া তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে এই ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১ হাজার ৩৩২ জন বেসামরিক ইরানি নিহত হয়েছেন এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারাও রয়েছেন নিহতের তালিকায়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় ছয় মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছে।
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন এবং ইরান যুদ্ধের বিগত দুই বছর ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জো বাইডেন—উভয় প্রশাসনের আমলেই ইসরায়েলের প্রতি ওয়াশিংটনের সামরিক সমর্থন অটুট রয়েছে। অতীতেও বাইডেন প্রশাসন ঠিক একইভাবে কংগ্রেসের পর্যালোচনা এড়িয়ে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি করেছিল। তবে মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা গাজা ও ইরানের সাম্প্রতিক এই সংঘাতকে নিয়ে কঠোর সমালোচনা করছেন। গাজায় চলমান ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবং জাতিসংঘের তদন্তে বারবার প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যা ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের নৈতিকতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।















