পাকিস্তানের করাচিতে ভূমিকম্পের পর সৃষ্টি হওয়া আতঙ্কের সুযোগে মালির কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে গেছে অন্তত ২০০ জনেরও বেশি কয়েদি। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার ভোররাতে কম্পনের ফলে জেলে ব্যাপক হট্টগোল শুরু হয়, যার জেরে কয়েদিরা দরজা-জানালার তালা ও কাচ ভেঙে পালানোর চেষ্টা করে। খবর রয়টার্স।
করাচির মালির এই জেলটি সিন্ধু প্রদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কারাগার। ঘটনার দিন ২,২০০ কয়েদি ধারণক্ষমতার জেলটিতে ছিল প্রায় ৫,০০০ বন্দি। অতিরিক্ত চাপের মধ্যেই ঘটে এই বিশৃঙ্খলা।
পুলিশ জানায়, পালিয়ে যাওয়া কয়েদিদের মধ্যে ৮০ জনকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে এখনো অন্তত ১৩০ জন পলাতক। পালানোর সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে একজন কয়েদি নিহত এবং দুই কারারক্ষী আহত হন।
কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট জানান, মধ্যরাতের পর থেকেই বন্দিরা চিৎকার শুরু করে। তারা মনে করছিল ভূমিকম্পে ভবনটি ধসে পড়তে পারে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আতঙ্ক সহিংসতায় রূপ নেয়। পুলিশ তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আকাশে গুলি ছোড়ে।
অনেক বন্দি পরে স্বেচ্ছায় ফিরে এলেও প্রায় ২১৬ জন কয়েদি সেই সুযোগে মূল ফটক ভেঙে পালিয়ে যায়।
পুলিশ এখন পলাতকদের খোঁজ করছে। কারাগারের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি কোনো নিরাপত্তা ব্যর্থতা নয়, বরং একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঘটনা।‘
সিন্ধু প্রদেশের কারা মন্ত্রী আলি হাসান জারদারি ঘটনাটির তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ঘটনার পর, জেলের বাইরে বন্দিদের পরিবার সদস্যরা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার বন্ধ থাকবে। এ নিয়ে স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।















