বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, বায়ুদূষণে প্রতি বছর ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে শুধু ভারতেই বায়ুদূষণে মারা যায় ১৪ লাখের বেশি মানুষ, যা বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুদূষণে শুধু মানুষের আয়ুই কমছে না, ভারতের ফসল উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গবেষণা বলছে, ভারতে শুধু ওজোন গ্যাসের দূষণে ২ কোটি ২০ লাখ টন গম ও ৬৫ লাখ টন ধান উৎপাদন কম হচ্ছে। যার আর্থিক মূল্য ৬৫০ কোটি ডলার। মাদ্রাজের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউিট অব টেকনোলজির (আইআইটি-এম) নেতৃত্বে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষকরা বলছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ালে যে নাইট্রোজেন অক্সাইড গ্যাস তৈরি হয়, তা বাতাসের সঙ্গে বিক্রিয়া করে তৈরি করে ওজোন গ্যাস। এটি অত্যন্ত সক্রিয়। ফলে উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে কার্বনডাই-অক্সাইডের সঙ্গে প্রবেশ করে পানি ও অন্যান্য রাসায়নিকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। ফলে উদ্ভিদের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওজোন দূষণের কারণে ভারতে প্রতি বছর গমের উৎপাদন ২১ শতাংশ এবং ধানের উৎপাদন ৬ শতাংশ ব্যাহত হয়। এর মধ্যে শস্য আবাদের অন্যতম দুই রাজ্য পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় যৌথভাবে গম ও ধানের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যথাক্রমে ১৬ ও ১১ শতাংশ। অর্থমূল্যে গমের জন্য ক্ষতি ৫০০ কোটি ডলার এবং ধানের ক্ষতি ১৫০ কোটি ডলার।

একই ধরনের তথ্য দিচ্ছে খাদ্যনীতি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ইফপ্রি)। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বিশ শতকের ষাটের দশকে ভারতে সংঘটিত সবুজ বিপ্লবের পর গম উৎপাদন তিন গুণ হয়েছে। দেশটি এখন অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় কাছাকাছি গম উৎপাদন করছে। কিন্তু খাদশস্যটির উৎপাদন প্রবৃদ্ধি ধীরে ধীরে কমে আসছে। ২০১৮-১৯ উৎপাদন মৌসুমে ১০ কোটি টন গম উৎপাদনে রেকর্ড করলেও, ভারতের বাতাস যদি ৫০ বছর আগের মতো নির্মল থাকত তাহলে এ মৌসুমে আরো প্রায় চার কোটি টন বেশি গম উৎপাদন করা সম্ভব হতো।

ইফপ্রি জানায়, ভারতে শিল্পায়ন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বিশেষ করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্রমসেই বাড়ছে। এর বাইরে রান্নার কাজে কাঠ, শুকনো গোবর, ফসলের উচ্ছিষ্ট পোড়ানোর পাশাপাশি পরিবহন খাতে জ্বালানি তেলের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এতে বায়ুমণ্ডলে ওজোনের পরিমাণও বিপজ্জনক হারে বাড়ছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে আইআইটি-এম বলছে, ভারতে বায়ুদূষণের সবচেয়ে বড় উৎস মনুষ্যসৃষ্ট দূষণ। যা ইন্দো গাঙ্গেয় সমভূমির (আইজিপি) মতো কৃষিপ্রধান অঞ্চলের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে ভারতের মতো দ্বিতীয় জনবহুল দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপরও হুমকি তৈরি করছে।

ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে গম ও ধানের মধ্যকার পার্থক্যের বিষয়টিও উঠে এসেছে আইআইটি-এমের প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়েছে, গম রবি মৌসুমের (নভেম্বর-এপ্রিল) ফসল। এ সময় বায়ুমণ্ডলে ওজোন গ্যাসের মাত্রা বেশি থাকে। আর খরিপ মৌসুমের (জুন-অক্টোবর) ফসল ধান আবাদের সময় ওজোন কিছুটা কম থাকে। তাছাড়া গমের তুলনায় ধা?