বাবা ছিলেন সামান্য বর্গাচাষী। বাবা-মায়ের আট সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন সপ্তম। অভাবের সংসারে দিন পার করতে হতো তাদের। বাবার সংসারে হাল ধরতে তাই কলেজে পড়ার পাশাপাশি পানের আড়তেও কাজ করতেন। কিন্তু লক্ষ্য ছিল অভাব দূর করে পরিবারের সবার মুখে হাসি ফেরানোর। সেজন্যই পড়াশোনার পাশাপাশি হাঁস পালন শুরু করেন। ১৭ বছরের ব্যবধানে তিনি এখন হয়ে উঠেছেন বড় খামারি। সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর পাশাপাশি পেয়েছেন পরিচিতিও। অর্জন করেছেন বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক। আত্মপ্রত্যয়ী এ যুবক হলেন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার জাকির হোসেন।

হাঁস পালনের দীর্ঘ এ যাত্রার শুরুটা ২০০২ সালে। এ সময়ে পরিবারের বাড়তি আয় যোগ করার কথা চিন্তা করেন জাকির হোসেন। সে অনুযায়ী, অল্প পুঁজিতে পড়াশোনার পাশাপাশি অন্য কোনো কাজ শুরুর চিন্তা করতে থাকেন তিনি। এ উদ্দেশ্য নিয়ে পাশের গ্রামের একটি হাঁসের খামার পরিদর্শন করেন। সেখানে স্থানীয় একটি খামারে পালন করা শত শত হাঁস দেখে উৎসাহিত হন। এরপর চুয়াডাঙ্গার তত্কালীন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা অজয় কুমার রায়ের কাছ থেকে হাঁস পালনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য নেন। তার দেয়া পরামর্শ অনুযায়ী, খুলনার দৌলতপুরের আঞ্চলিক অফিস থেকে হাঁস পালনের ওপর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নেন। মাত্র ১ হাজার ৬০০ টাকা নিয়ে যাত্রা শুরু করেন হাঁস পালনের। এরপরের গল্পটা শুধুই এগিয়ে যাওয়ার।

বর্তমানে জাকিরের খামারে ২০ হাজারের বেশি বিভিন্ন জাতের হাঁস রয়েছে। হাঁস পালনের পাশাপাশি হ্যাচারিতে বাচ্চা উৎপাদন করেন। প্রতি মাসে তিন লাখ বাচ্চা উৎপাদন করেন তিনি। যা থেকে তার মাসে আয় কয়েক লাখ টাকা। এছাড়া ডিম বিক্রি থেকেও বড় অংকের টাকা আয় করেন তিনি। আর তার খামারে কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন ৯০টি পরিবারের সদস্যরা।


সম্প্রতি জাকির হোসেনের কুলপালা গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির পাশেই টিনশেডের ঘর ও নেট জাল দিয়ে ঘেরাও করে কয়েকটি খামার তৈরি করা হয়েছে। এসব খামারেই রাতের বেলা ও দিনের একটি সময়ে হাঁসগুলো থাকে। দিনের অন্য সময় পাশের বিলে চড়ে বেড়ায়। শুরুতে খাকি ক্যাম্বেল ও জিনডিং জাতের ২০০ হাঁসের বাচ্চা দিয়ে শুরু করলেও এখন হাজার হাজার হাঁসে মুখরিত হয়ে ওঠে জাকিরের খামার।

জাকির জানান, ২০০৩ সালে এইচএসসি পাসের পর ভর্তি হন বিকমে। পাশাপাশি বড় হতে থাকে তার হাঁসের খামার। শুরুতে কিছুটা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও আস্তে আস্তে খামার বড় হতে থাকে ও হাঁসগুলো ডিম দেয়া শুরু করে। এর পর থেকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তার। দিনে দিনে হাঁসের সংখ্যা বাড়তে থাকে, বাড়তে থাকে ডিমের সংগ্রহও। খুব তাড়াতাড়ি পরিচিতি পেয়ে যান<