চলছে ভালোবাসার মাস ফেব্রুয়ারি।
আভিজাত্য ও ভালোবাসার মিশ্রণে ফ্রেন্স লাক্সারি ব্র্যান্ড ভ্যান ক্লিফ অ্যান্ড আর্পেলস নতুন কয়েকটি হাতঘড়ি নিয়ে এসেছে।
পন্ট ডেস অ্যামোরেক্স নামের ঘড়িগুলোয় এক জোড়া প্রেমিক-প্রেমিকার দুপুর ও মধ্যরাতের ভালোবাসার দৃশ্য প্রকাশ পেয়েছে।
চাহিদা অনুযায়ী দৃশ্যগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তনেরও সুযোগ আছে।
মধ্যরাতের সংস্করণে সংস্থাটি ২০১৮ সালে প্যারিসে একটি বিশেষ উৎসবের স্মৃতি তুলে ধরেছে।
এছাড়া দিনের সংস্করণটিতে গোলাপি স্বর্ণের কেসিং, ডায়মন্ড বেজেল ও গোলাপি-বেগুনি এনামেলিং ডায়াল রয়েছে, যা আলাদা এক পটভূমি উপস্থাপন করে।
দুই সংস্করণের ঘড়িতেই পছন্দ অনুযায়ী ডায়মন্ড ব্রেসলেট অথবা কুমিরের চামড়ার ফিতা নিতে পারবেন।
ভ্যান ক্লিফ অ্যান্ড আর্পেলসের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ও সিইও নিকোলাস বোস বলেন, আমরা যখন প্রথম পন্ট ডেস অ্যামোরেক্স নকশা করলাম, তখন সেখানে প্যারিসের নির্দিষ্ট একটি জায়গা উঠে এসেছিল।
সত্যিকার অর্থে এটা নির্দিষ্ট কোনো স্থান ছিল না, বরং সেটা ছিল কয়েকটি সেতুর মিশ্রণ।
সুতরাং সেটা প্যারিসের একটা ছোট্ট ফ্যান্টাসি দর্শন ছিল।
আমরা এখন ঋতু ও সময়ের পরিবর্তনগুলো নিয়ে ভাবছি।
তাই নতুন এ ঘড়িতে ভালোবাসার সঙ্গে আমরা সময়কে তুলে ধরেছি।
দিন ও রাতের সংস্করণ বাদ দিয়েও পন্ট ডেস অ্যামোরেক্স ঘড়িতে আরো চারটি সংস্করণ রয়েছে।
ঘড়িগুলোয় প্যারিসের সেই একই সেতু ও ভালোবাসার বন্ধন অটুট থাকলেও ভিন্ন ভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডে হাজির হয়েছে।
বসন্ত ঋতুর জন্য পন্ট ডেস অ্যামোরেক্স ঘড়িটি গোলাপি হীরা, হালকা লাল ও বেগুনি নীলকান্তমণির সঙ্গে গোলাপি স্বর্ণের ব্রেসলেট নিয়ে হাজির হয়েছে।
গ্রীষ্মকালীন সংস্করণে হোয়াইট গোল্ডের আবরণের সঙ্গে হীরার ব্রেসলেট, হলুদ নীলকান্তমণি ও গারনেট রয়েছে।
শরতকালের সংস্করণে কমলা রঙকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।
ঘড়িটির হলুদ স্বর্ণের আবরণে রয়েছে হীরার ব্রেসলেট, হলুদ নীলকান্তমণি ও গারনেট টুকরো।
এছাড়া সাদা স্বর্ণের আবরণের ব্রেসলেট, হীরা ও নীলকান্তমণি দিয়ে শীতকালকে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ভ্যান ক্লিফ অ্যান্ড আর্পেলস তাদের নতুন ঘড়িগুলোয় স্বঘূর্ণিত যান্ত্রিক সিস্টেম ব্যবহার করেছে এবং চাহিদা অনুযায়ী ব্যাকগ্রাউন্ড নেয়া যাবে।
সীমাবদ্ধ সংস্করণের এ ঘড়িগুলো মাত্র ২০০ পিস করে তৈরি করা হয়েছে।
নিকোলাস বোস বলেন, আমরা দেখেছি, আমাদের যে গ্রাহকরা এ ঘড়িগুলো ব্যবহার করে, তারা সব সংস্করণগুলোই উপভোগ করেছে। এছাড়া তারা এ টাইমপিসগুলোর সঙ্গে খেলতে এবং বন্ধুদের দেখাতে পছন্দ করে। ঘড়িগুলোয় আমরা ১৯২৭ সাল থেকে অন-ডিমান্ড বিষয়টি চালু রেখেছি। এটা প্রেমিক-প্রেমিকার কাছে খুব উপভোগ্য।
দু-তিন বছর আগে প্রত্যেকেই ট্যুরবিলন ও ডাবল ট্যুরবিলন, ঘড়ির গতি ও নির্ভুলতা নিয়ে জিজ্ঞাসা করত।
আমরা এগুলো নিয়ে কী ভাবছি, তারা জিজ্ঞাসা করত।
আমি তাদের বলতাম, আমি এমন একটি ঘড়ি তৈরি করতে চাই, যা ধীরে চলে, আমি আসলে সময়ের একাধিক উপস্থাপনা করতে চেয়েছি।
পাশাপাশি এগুলোয় প্রকৃতির ছাপ থাকবে।
তো
খুব ধীরে চলেও সময়ে নির্ভুলতা ধরে রাখা ট্যুরবিলনের মতোই চ্যালেঞ্জিং ছিল।
আমরা সেটাই তুলে ধরেছি—বলছিলেন ভ্যান ক্লিফ অ্যান্ড আর্পেলসের সিইও।
পন্ট ডেস অ্যামোরেক্স শুধু যে নারীদের জন্যই ভালোবাসার বন্ধন নিয়ে এসেছে, তা এমন নয় বলে জানান নিকোলাস বোস।
তিনি বলেন, আমাদের কাছে পুরুষদের জন্য বেশকিছু চাহিদা এসেছিল, যারা ঘড়িটির এ গল্পটি পছন্দ করেছিল।
তবে তারা ঘড়িটির কিছুটা পুরুষালি ভাব চেয়েছিলেন এবং বিভিন্ন ভৌগোলিক ব্যাকগ্রাউন্ড বা চরিত্রের আলাদা গল্প রাখতে বলেছিলেন।
তাই আমরা পন্ট ডেস অ্যামোরেক্স ঘড়িতে কিছু পুরুষালি ভাব যুক্ত করে এটা দেখতে কেমন হয়, তা অন্বেষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আশা করছি, আগামীতে পন্ট ডেস অ্যামোরেক্স পুরুষদের জন্যও আসবে।
সূত্র: স্টাইল ম্যাগাজিন





