সুইডেনের বিখ্যাত ঘড়ির ব্র্যান্ড ব্ল্যাংকপেইন মাসব্যাপী ঘড়ি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। সম্প্রতি নিউইয়র্কে কিংবদন্তি অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর ব্যবহার করা একটি ঐতিহাসিক ঘড়ি প্রদর্শিত হয়েছে। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল। আগে এ রকম ঘড়ি কোথাও দেখা যায়নি।
দুর্লভ ঘড়িটির আকৃতি চতুর্ভুজাকার। ১৯৩০-এর দশকে ঘড়ি তৈরির বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাংকপেইন এটা তৈরি করে। ঘড়িটি হীরা দিয়ে তৈরি। বিখ্যাত অভিনেত্রী মেরিলিন মনরো দীর্ঘদিন ঘড়িটি ব্যবহার করেন। ১৯৬২ সালে তার অকালমৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর পর এটাকে নিলামে তোলা হয়। ব্ল্যাংকপেইন তখন ২২ হাজার ৫০০ ইউএস ডলার দিয়ে ঘড়িটি কিনে তাদের সংগ্রহে রাখে। বলা হয়, মেরিলিনের মৃত্যুর পর ঘড়িটি তার ভারপ্রাপ্ত কোচের কাছে ছিল। পরে তিনি লি স্ট্রেসবার্গের সম্পত্তির অংশ হিসেবে ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত জুলিয়ানের নিলাম অনুষ্ঠানে এটা বিক্রি করতে যান। সেখান থেকেই ব্ল্যাংকপেইন ঘড়িটি সংগ্রহ করে।
ব্ল্যাংকপেইনের সভাপতি ও সিইও মার্ক এ হায়েক বলেন, ‘ব্যতিক্রমী এ ঘড়ি সংগ্রহ করতে পেরে আমরা খুব আনন্দিত। এটা একসময় বিখ্যাত অভিনেত্রী মেরিলিন ব্যবহার করতেন। আমরা খুব খুশি যে ঘড়িটি যেখানে তৈরি করা হয়েছিল, সেখানে এটাকে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি।’
কালজয়ী এ প্রদর্শনীতে শুধু মেরিলিনের ঘড়ি নয়, বিখ্যাত ফটোগ্রাফার লরেন্স শিলারের তোলা ছবিও স্থান পেয়েছে। মেরিলিনের শিলারের তোলা ছবিগুলো খুব কমই দেখতে পাওয়া যায়। শিলার ১৯৬০ ও ১৯৬২ সালে মেরিলিনের বেশকিছু ছবি তোলেন। তিনি মেরিলিন অ্যান্ড মি
নামে একটি বই লেখেন। গতকালের প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে বিখ্যাত এ ফটোগ্রাফার উপস্থিত ছিলেন। প্রদর্শনীতে মেরিলিনের ব্যক্তিগত ব্যবহার্য কিছু জিনিসপত্রও রাখা হয়েছে। ব্ল্যাংকপেইনের লক্ষ্য হলো মেরিলিনের ব্যক্তিগত জীবনের আরো অনেক কিছু প্রদর্শনের মাধ্যমে তাকে স্মরণ করা।
প্রদর্শনীটি সফল করতে ব্ল্যাংকপেইনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে অথেনটি ব্র্যান্ডস গ্রুপ (এবিজি)। এবিজি হলো ব্র্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ও বিপণন সংস্থা। সংস্থাটি মনরো স্টেটের সঙ্গে যুক্ত এবং স্টেটের প্রায় ৫০টি সম্পত্তির মালিক।
ঘড়ি তৈরি প্রসঙ্গে এবিজির প্রতিষ্ঠাতা, সভাপতি ও সিইও বলেন, ‘সময়োপযোগী
বিলাসবহুল কারুকাজ ও উদ্ভাবনের ইতিহাস ব্ল্যাংকপেইনের রয়েছে। আজো ব্ল্যাংকপেইন নারীদের জন্য আভিজাত্যপূর্ণ ও মনোমুগ্ধকর সব ঘড়ি তৈরি করে চলেছে।’
সূত্র: ফোর্বস





