জাহাজের ভেতরে ব্যায়াম করা যাবে, স্পা করা যাবে, আবার সাঁতারও নাকি কাটা যাবে—এ কেমন কথা! এ খবর শুনে অনেকেরই চোখ কপালে উঠতে পারে। তবে কথাটি মিথ্যা নয়। সত্যিই এমন এক ডিজাইনের জাহাজ তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে ইচ্ছা করলেই আপনি ব্যায়াম করতে পারেন, স্পা করাতে পারেন এমনকি মন চাইলে সাঁতারে ডুব দিতে পারেন। যে জাহাজে এত কিছুর সুবিধা, সেটি নিশ্চই খুব বিলাসবহুল হবে! হওয়াটাই স্বাভাবিক। যারা সমুদ্র ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য নিঃসন্দেহে এটি খুশির খবর। এতক্ষণে নিশ্চয়ই আপনাদের মনে কৌতূহল জেগেছে বিলাসবহুল জাহাজটির আদ্যোপান্ত জানার।
জাহাজটির নাম হলো ক্যারাপেস। এটি ৭৮ মিটার আল্ট্রা-বিলাসবহুল ইয়ট বা জাহাজ। বলা হচ্ছে, জাহাজটি জেমস বন্ড স্টাইলের জাহাজ। জাহাজটির ডিজাইন করছেন ৩৪ বছর বয়সী ইতালীয় ডিজাইনার এলেনা নাপ্পি। সাধারণ পাল তোলা জাহাজটি সাবমেরিনেও রূপান্তরিত হতে পারবে।
মৌলিক ডিজাইনের এ জাহাজ ক্যাপ্টেন নিমোর নটিলাসের কথা মনে করিয়ে দেবে। ধনকুবেরদের কাছে জাহাজটি নিছক খেলনার মতো। হাইব্রিড ধরনের জাহাজটি নির্মাণের কাজ চলছে ইতালিতে। এখনো শেষ হয়নি। তবে আশা করা হচ্ছে, ২০২১ সালের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে। ডিজাইনার এলেনা নাপ্পি বলছেন, জাহাজের পৃষ্ঠভাগে ১৬টি নোট রয়েছে, যা জাহাজের গতি নিয়ন্ত্রণের কাজ করবে। এটি অন্যান্য বিলাসবহুল জাহাজের মতোই পানির ওপর চলতে পারবে। সেই সঙ্গে ৩০০ মিটার গভীরে সাবমেরিনে রূপান্তরিত হতে পারবে। এটি টানা ১০ দিন পানির নিচে ডুবে থাকতে পারবে এবং পানির নিচে ১৩টি নোট জাহাজের গতি নিয়ন্ত্রণ করবে। ফলে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। নিশ্চিন্তে আপনি পানির নিচে ১০ দিন কাটিয়ে আসতে পারেন। জাহাজে অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করে একটি বিশেষ ডিজাইনের কাঠামো যুক্ত করা হচ্ছে। কাঠামোর নিচে দাঁড়িয়ে কিংবা বসে সমুদ্রের পানি, রক্তিম আকাশ দেখতে পারবেন। জাহাজটি ডিজেল, বৈদ্যুতিক ও ফুয়েল সিস্টেম দ্বারা চালিত হবে।
বিশেষ ধরনের জাহাজটি ব্যক্তিগত ও পাবলিক সেক্টরে ব্যবহারের জন্য ডিজাইন করা হচ্ছে। পাবলিক সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা, চুক্তি বা গোপন বৈঠকের কাজে এটি ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে কেউ ব্যবহার করতে চাইলেও করতে পারবে। বিলাসবহুল জাহাজটির ভেতরে অনেক সুবিধা থাকবে। যাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা, ভিআইপি কেবিন, লাউঞ্জ, স্পার কক্ষ, বার ও শরীরচর্চার জন্য একটি কক্ষ যুক্ত করা হয়েছে। ভাবতেই অন্য রকম লাগে। এবার আর ঘুরতে গিয়ে এসব নিয়ে কাউকে চিন্তা করতে হবে না। মনের আনন্দে জাহাজে করে ঘুরে বেড়াতে পারবেন। কেউ যদি সাঁতার কাটতে চান, তারও ব্যবস্থা আছে এ জাহাজে। বিশেষ এ জাহাজে সুইমিং পুলের ব্যবস্থা রয়েছে। তার চারপাশে রয়েছে বিশ্রামের জন্য কিছু আরামদায়ক চেয়ার। জাহাজের বিশেষ সুবিধা ভোগের সঙ্গে উপভোগ করতে পারবেন সমুদ্রের অপার সৌন্দর্য। বিশেষ সুবিধাসংবলিত এ জাহাজ তৈরির পেছনে কত খরচ হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজ তৈরিতে প্রায় কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে।
সূত্র: লাক্সারি লঞ্চেস





