বহুকাল আগ থেকেই টেবিল ঘড়ি সময় দেখার যন্ত্রের পাশাপাশি বাড়ির সৌন্দর্য উপকরণ শোপিস হিসেবে ব্যবহূত হয়ে আসছে। বর্তমান ঘড়িগুলোয় সৌন্দর্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নিত্যনতুন সব প্রযুক্তি। দেখতে আকর্ষণীয় ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত এসব ঘড়ি সবার নজর কাড়ে। বিলাসবহুল ঘড়ির জগতে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড জেগার-লেকুল্থের অ্যাটমোস ঘড়িগুলো এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিশেষ এক জৈবিক সৃষ্টি। এরপর বাজারে অনেক ঘড়ি এলেও সেগুলো চিরস্থায়ী টাইমপিস হিসেবে রয়ে গেছে। জেগার-লেকুল্থ এবার তাদের অ্যাটমোস ঘড়ির এমন একটি সংস্করণ নিয়ে এসেছে, যার সম্পূর্ণ স্বচ্ছ দেহ ভেতরের যান্ত্রিক ক্রিয়াগুলোর দৃষ্টিনন্দন ভিউ সৃষ্টি করেছে।

অ্যাটমোস ঘড়ির সর্বশেষ এ সংস্করণ নিয়ে কথা বলার আগে এ টেবিল ঘড়িটির ইতিহাসটা জানা দরকার। ইঞ্জিনিয়ারিং মার্ভেলের এ ঘড়িগুলো ৮০ বছরেরও বেশি সময় ধরে উৎপাদিত হচ্ছে। ফরাসি ইঞ্জিনিয়ার জ্যান-লিয়ন রিউটার এ অ্যাটমোস ঘড়ি তৈরি করেছিলেন। ১৭ শতকে তাপমাত্রা ও পরিবেশের বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিবর্তন থেকে সৃষ্ট শক্তি দিয়ে ঘড়ি চালনার আইডিয়া গড়ে ওঠে। রিউটার তার এ ঘড়ি বাণিজ্যিকভাবে সফল করতে না পারায় ১৯৩৫ সালে লেকুল্থের কাছে তিনি আইডিয়াটা বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। এর দুই বছর আগে লেকুল্থ সংস্থা অ্যাডমন্ড জেগারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জেগার-লেকুল্থ গঠিত হয়। এরপর সুইস ঘড়ি নির্মাতা সংস্থাটি অ্যাটমোস ধারণাটি আরো কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য করে তোলে।

অ্যাটমোসের সর্বশেষ সংস্করণটিতে আগের ঘড়িগুলোর তুলনায় অনেক সিম্পল ও মশৃণ শৈলী যুক্ত করা হয়েছে, যা পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক আবেদন তৈরি করে। রোমান সংখ্যার কালো ব্যাটন ঘণ্টার চিহ্ন এবং ঝকঝকে কালো কাঁটা ঘড়িটিকে অন্যন্য লুকে হাজির করেছে। ট্রান্সপারেন্ট হওয়ায় ঘড়িটির অভ্যন্তরের মেকানিক্যাল ক্রিয়াকলাপগুলো বাইরে থেকে খুব ভালোভাবেই ফুটে ওঠে। গ্যাস ভরা বেলো ঘড়িটিকে শক্তি ও যান্ত্রিক ক্রিয়াকলাপ সম্পূর্ণ করার জন্য ভারসাম্য এনে দেয়। এটি সাধারণ হাতঘড়ির ২৮ হাজার ৪০০ যান্ত্রিক দোলনের তুলনায় মাত্র ১২০ দোলন তৈরি করে। ফলে ঘড়িটি মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই বছরের পর বছর চলতে সক্ষম। জেগার-লেকুল্থের নতুন এ অ্যাটমোস ট্রান্সপারেন্টের দাম ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৪৫০ মার্কিন ডলার। তবে দামের তুলনায় ঘড়িটি মানের দিক থেকে অনেক উন্নত বলছেন বিশ্লেষকরা।

 

সূত্র: লাক্সারি লঞ্চেস