আধুনিক সময়ের নতুন প্রজন্ম সর্বদা বিকল্প কিছু চায়। ২০২০ সালে গ্রাহকরা জনপ্রিয় অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর বিকল্প কিছুর অনুসন্ধান চালিয়ে যাবেন। টিকটকের মতো প্লাটফর্মগুলো আধুনিক গ্রাহকদের মাঝে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে থাকবে। এজন্য গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ ধরে রাখতে ব্র্যান্ডগুলোরও এমন প্লাটফর্মে কার্যক্রম বিস্তৃত করতে হবে
ভূরাজনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা ও মন্দার আশঙ্কা সত্ত্বেও ২০১৯ সাল লাক্সারি শিল্পের বাজার বৃদ্ধির উপযুক্ত বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অর্থের হিসাবে বিশ্বব্যাপী লাক্সারি শিল্পের বাজার আনুমানিক ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। গ্রাহকরা ক্রমবর্ধমানভাবে ডিজিটাল চ্যানেল দ্বারা প্রভাবিত এবং সক্ষম হওয়ায় প্রত্যাশিতভাবে অনলাইনে বিক্রি বেড়ে চলেছে। আর এতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখছেন নতুন প্রজন্মের গ্রাহকরা। তবু একসময়ের ঐতিহ্যবাহী লাক্সারি বাজারটি এখন ভূমিকম্পের মতো পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লাক্সারি শিল্প ২০২০ সালে তাদের অস্তিত্ব ধরে রাখতে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের মধ্যদিয়ে যেতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলো নিজেদের সংস্কৃতির মধ্যে সংশোধন আনবে এবং সামাজিক পরিবর্তনগুলো চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নতুন করে নির্ধারণ করবে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে কারুকার্য ও জ্বালানিতে নতুনত্ব নিয়ে আসা। বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর উচিত তাদের আধুনিক গ্রাহকদের সঙ্গে গভীর এবং আরো অর্থবহ সম্পর্ক তৈরি করা। এটা তাদের পণ্যগুলোর পরিসর এবং গ্রাহক বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে। বিলাসবহুল গ্রাহকরা এখনো সক্রিয় রয়েছেন। ব্যান্ডগুলোকে এখন গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী কেনা, ব্যয় ও যোগাযোগ করার জন্য ডিজিটাল মাধ্যমের দিকে নিয়ে যেতে হবে।
এসব দিক থেকে ২০২০ সাল লাক্সারি শিল্পে ব্যাপক চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাজির হয়েছে। লাক্সারি ব্যবসার প্রসারতা ধরে রাখতে নতুন বছরের চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করেছেন এ শিল্পের বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে তারা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার পথও বাতলে দিয়েছেন।
উত্তরাধিকারে নতুনত্ব
ঐতিহ্য ও দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলো মূল্যায়নের নির্ধারক নয়। তাদের আগের ঐতিহাসিক নকশা ও শৈলীর উত্তরাধিকার বর্তমান ব্যবসায় খুব বেশি ভালো করতে পারছে না। তাদের ঐতিহাসিকতার বাইরে বর্তমান সময়ের প্রাসঙ্গিকতা যুক্ত করতে না পারলে এ ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর মানে এই নয় যে ব্র্যান্ডগুলো তাদের অতীত ঐতিহ্য ভুলে যাবে। বর্তমান সংস্কৃতির চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে নতুন নকশা ও শৈলী নিয়ে তাদের ভাবতে হবে। এটা চলতি বছরের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।
বৈচিত্র্য আনয়ন ও আবেদন বিস্তৃত করা
কয়েক বছর ধরে দ্রুত বাড়ছে বিলাসবহুল পণ্যের বাজার। এখানে বড় বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলো নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী তাদের গ্রাহক বাড়াতে খুব বেশি তত্পরতা দেখা যায় না। এ বছর গ্রাহক বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা শুরু করার ভালো সময়। তাই বিলাসবহুল পণ্যের বাজার বড় করতে নিজেদের পণ্যে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি আবেদনও বিস্তৃত করতে হবে। মজার বিষয় হলো, এ কাজটা করছে খুচরা বিক্রেতারা। তারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী গ্রাহক বাড়ানোর চেষ্টা করে। এটারও গতি বৃদ্ধির চেষ্টা করতে হবে।
উন্নত সংস্কৃতি
সদ্য শেষ হওয়া বছরে সব সংস্কৃতির মানুষের ভেতরে বিলাসবহুল পণ্যগুলো ছড়িয়ে পড়ার একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এটা ব্র্যান্ডগুলোর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পণ্যের মাধ্যমে সব ধরনের ও সংস্কৃতির মানুষকে খুশি করা কঠিন বা তাদের মনের মতো পণ্য উৎপাদন করাও বড় চ্যালেঞ্জ। চলতি বছর এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে না পারলে বাজার বৃদ্ধির প্রবণতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাবে। এজন্য বড় ব্র্যান্ডগুলোর কাজ হবে আলাদা আলাদা গবেষণা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে মানুষের রুচিবোধের বিষয়টি তুলে আনা। এটাই লাক্সারি ভুবনে উন্নত সংস্কৃতির পরিচায়ক হবে।
তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণে সচেতনতা
বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হলো তথ্য। বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলো গ্রাহকদের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণে অনেক সময় উদাসীনতা দেখিয়েছে এবং তথ্য ফাঁস বা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। ২০২০ সাল তাই নতুন করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। আর গ্রাহকরাও এখন নিজেদের তথ্য ছড়িয়ে পড়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। তথ্যের বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে না পারলে লাক্সারি ব্র্যান্ডগুলোর ডিজিটাল বা অনলাইন প্লাটফর্মগুলো অনেক গ্রাহক হারাতে পারে। তাই গ্রাহকদের তথ্য সংগ্রহ এবং সেগুলো সংরক্ষণে বিনিয়োগ করা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। কারণ গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য, তাদের পছন্দ, পরিবর্তিত মনোভাব ও তাদের ফিডব্যাক এ শিল্পে অপরিহার্য।
স্থায়িত্বের নিশ্চয়তা
ফ্যাশন ব্র্যান্ড স্টেলা ম্যাককার্টনি স্থায়িত্ব ধরে রাখতে ‘ওয়ার্ল্ড অব সাসটেইনেবিলিটি’ চালু করেছে। তাদের মান অনুযায়ী অনেক বড় ব্র্যান্ডও স্থায়িত্বের দিক থেকে তলানিতে পড়ে আছে। তরুণ প্রজন্মের গ্রাহকরা পণ্যের উপাদান ও টেকসইয়ের বিষয়গুলোয় অনেক সচেতন। তাই ২০২০ সাল বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর জন্য টেকসই পণ্য উৎপাদন বড় একটি চ্যালেঞ্জ।
সততা ও ট্রেসযোগ্যতা পরীক্ষা
বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলো সততা ও ট্রেসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে ব্লকচেইন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। অনলাইনে দামি এ পণ্যগুলোর বিক্রি বাড়তে থাকায় ২০২০ সাল হতে পারে সততা প্রমাণের বছর। কারণ অনলাইনে পণ্য কিনে গ্রাহক একবার ঠকলে নকলের ভয়ে পুনরায় আর পণ্য ক্রয়ের আগ্রহ দেখাবেন না। পাশাপাশি অনেকদিন ধরে বিলাসী পণ্যের সঙ্গে প্রযুক্তির মিশ্রণ চাইছেন গ্রাহকরা। তারা চাইছেন, দামি এ পণ্যগুলো হারিয়ে বা চুরি হয়ে গেলে যেন ট্রেস করা যায়। ২০২০ সালের পণ্যগুলো এমন ট্রেসযোগ্য করে তোলা বড় একটি চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: লুক্স ডিজিটাল





